• ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

রাজবাড়ীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.এম. এ. খালেকের পঞ্চম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত।

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২৫
রাজবাড়ীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.এম. এ. খালেকের পঞ্চম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক ও জেলা সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম.এ খালেকের পঞ্চম মৃত্যু বার্ষিকী রাজবাড়ী জেলা বিএনপির উদ্যোগে পালিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কর্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম পিন্টুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী , সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াত অ্যাডভোকেট এম. এ খালেকের বড় ছেলে এম.এ খালেদ পাভেল, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজা, জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য সচিব আবু তালেব, জেলা কৃষদ দলের সদস্য সচিব একেএম সিরাজুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আহমেদ, জেলা জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মহব্বত হোসেন খোকন, লিখন, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান, সদস্য সচিব শাহিনুর রহমান শাহিন, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস তসলিমসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।

অ্যাডভোকেট এম.এ খালেকের রাজনৈতিক ও কর্ম জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, অ্যাডভোকেট এম.এ খালেক ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের (জাগদল) সহযোগী সংগঠন জাগো ছাত্রদল রাজবাড়ী জেলা শখার আহ্বায়ক ছিলেন। পরের বছর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করলে তিনি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদ পতন আন্দোলনে তিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে দুইবার সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া তিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির কাউন্সিলের মাধ্যমে দুইবার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অ্যাডভোকেট এম.এ খালেক বারাবরের মতোই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমান তথা জিয়া পরিবার ও বিএনপির প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দলের বিস্বস্থ কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।

২০১৪ সালে অ্যাডভোকেট এম.এ খালেক বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় নিজের বিজয় সুনিশ্চিত জেনেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে দলের প্রতি আনুগত্য রেখে তিনিও নির্বাচনে অংশ নেননি।

অ্যাডভোকেট এম.এ খালেকের বড় ছেলে রাজবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম.এ খালেদ পাভেল বলেন, আমার বাবা রাজবাড়ী জেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত করার জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আমৃত্যু কাজ করেছেন। আজীবন তিনি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করেছেন। মানুষের বিপদে-আপদে তিনি সবসময় নিঃস্বার্থভাবে পাশে থেকেছেন এবং আমাকে ও আমার ছোট ভাই এম.এ. তারেক পলিনকে সেই শিক্ষাই সবসময় দিয়ে গেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীপেশার মানুষকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও দরিদ্র মানুষদের তিনি বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়েছেন। সুখে দুঃখে সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন আজীবন। এ কারণে রাজবাড়ীর মানুষ তাকে সবসময় দোয়া ও ভালবাসায় স্মরণ করে। আজ আমার বাবার পঞ্চম মৃত্যু বার্ষিকীতে সকলে আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন।

আলোচনা সভা শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রয়াত অ্যাডভোকেট এম.এ খালেকের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এছাড়াও প্রয়াত নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মসজিদে বআদ জুম্মা দোয়া ও তবারক বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট এম.এ খালেক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের (বিআইএইচএসএইচ) আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।