রাজীব দে ঢাকাঃ
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সভায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন এ এইচ এম আহসান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ আবদুর রহিম খান।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “বিগত বছরগুলোতে কঠোর মুদ্রানীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে বলে আমরা আশাবাদী।” তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের নীতি-নির্ধারক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বেসরকারি খাতের সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন এ এইচ এম আহসান বলেন, “বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় থাকা আবশ্যক। ব্যবসা সহজীকরণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় হ্রাস করলে তা পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।” আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ আবদুর রহিম খান বলেন, “গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর হবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে নীতি ও আইনবহির্ভূত কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”
সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য যানজট সৃষ্টির একটি বড় কারণ। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া অবৈধ দখলদারিত্ব ও ফুটপাতে দোকান বসানো বন্ধে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া জানান, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘আইপিও নীতিমালা ২০২৫-২৮’ প্রকাশের কাজ করছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল কৃষি পণ্যের গুণগত মান রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা চাঁদাবাজি, ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত জটিলতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সিন্ডিকেট রোধ এবং যানজট নিরসনের দাবি জানান। তারা বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে হলে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো: সালিম সোলায়মন সহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।