• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

স্ক্র্যাপ লোহা চুরি ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থান

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
স্ক্র্যাপ লোহা চুরি ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থান

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইস্পাত ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে লোহা পরিবহনের সময় সংঘবদ্ধভাবে স্ক্র্যাপ লোহা চুরি, পরিবহন এবং অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

স্ক্র্যাপ লোহা চুরি, পরিবহন, মজুদ ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় প্রতিরোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজ বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয়ের সভাপতিত্বে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে লোহা পরিবহনের সময় ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাট, সোনাইছড়ি, বিজয় সরণি, কুমিরা, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, জোরারগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র কর্তৃক চলন্ত ট্রাক থেকে লোহা চুরির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

সভায় পুলিশ সুপার বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। লোহা চুরি, চোরাই লোহা পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা চোরাই চক্রকে সহযোগিতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বৈধ উৎস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া লোহা ক্রয়-বিক্রয় বা মজুদ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চোরাই লোহা চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পূর্ববর্তী চুরি ও চোরাই মাল সংক্রান্ত মামলা পর্যালোচনা করে পেশাদার চোর, পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত আসামি, সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা, সহযোগী, দালাল, পরিবহনকারী ও চোরাই মাল ক্রেতাদের তথ্য হালনাগাদ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চুরি সংঘটিত হওয়ার স্থান ও সময় বিশ্লেষণ করে চুরি প্রবণ হটস্পট ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট চিহ্নিত করে বিশেষ টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।

চোরাই লোহা ক্রয়-বিক্রয়ের সম্ভাব্য ভাঙারি ও স্ক্র্যাপ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, ক্রয়-বিক্রয়ের রেজিস্টার এবং লোহা সংগ্রহের বৈধ উৎস যাচাই করা হবে। চোরাই মাল ক্রয়-বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া চোরাই লোহা চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান ও টহল জোরদার করা হবে। শুধু চোর নয়, চোরাই মাল পরিবহনকারী, মজুদকারী, মধ্যস্বত্বভোগী ও ক্রেতাসহ পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লোহা পরিবহনের সময় ট্রাকের নম্বর, চালক, গন্তব্য ও চালানের তথ্য সংরক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনে GPS ট্র্যাকিং চালু, মালামাল সিল/লকিং ব্যবস্থা জোরদার এবং কারখানার প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে CCTV ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

চুরি প্রবণ হটস্পটগুলোতে CCTV ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোনো ব্যক্তি চুরি বা চোরাই লোহা পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা চুরির ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার পাশাপাশি পরিবহন নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ইস্পাত ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930