• ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৬শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১০, ২০২৬
ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান আজ ওয়াশিংটন ডিসির স্টেট ডিপার্টমেন্টে মার্কিন আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যালিসন হুকার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট পল কাপুরের সাথে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সাথে বৈঠকে ড. রহমান বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্রিফ করেন। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জবাবে অ্যালিসন হুকার জানান, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে।

বাণিজ্যিক প্রসঙ্গে ড. রহমান উল্লেখ করেন যে, মার্কিন কৃষি পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কিন ভিসা বন্ড শিথিল করার অনুরোধ জানান এবং সম্ভব হলে বি-১ (স্বল্পমেয়াদী বিজনেস) ভিসার ক্ষেত্রে এই বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। হুকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং জানান যে, ভবিষ্যতে পর্যটকদের অতিরিক্ত অবস্থান (overstay) কমে আসলে এই বন্ড ব্যবস্থা পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ড. রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বৃহত্তম দাতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন। জবাবে হুকার বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই সংকট সমাধানে বৈশ্বিক দায়িত্ব ভাগাভাগি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে থাকাকালীন জীবনযাত্রার সুযোগ বৃদ্ধির অনুরোধ জানান।

এ ছাড়া বৈঠকে ড. রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (DFC) অর্থায়ন এবং সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের প্রস্তাব করলে মার্কিন পক্ষ তা বিবেচনার আশ্বাস দেয়। গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে (International Stabilization Force) বাংলাদেশের নীতিগত অংশগ্রহণের আগ্রহের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র একসাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

একই দিনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. রহমান নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন-এর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। শপথ অনুষ্ঠানে মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইকেল জে. রিগাস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে সাথে আছে। আমি নতুন নির্বাচিত সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে উন্মুখ।”

সকল কর্মসূচিতে দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাথে উপস্থিত ছিলেন।

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031