নোয়াখালী জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ্-আল-ফারুক মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায়, জনাব আ ন ম ইমরান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বেগমগঞ্জ সার্কেল, নোয়াখালী এঁর তত্ত্বাবধানে জবাব এস এম মিজানুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ সেনবাগ থানা, নোয়াখালীর নেতৃত্বে এসআই নিরস্ত্র/ সনদ বড়ুয়া, এসআই নিরস্ত্র/ বেলাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ২৪/০৭/২০২৫খ্রিঃ দিবা পূর্ব রাত অনুমান ০১:৪০ ঘটিকার সময় ৮/৯ জন মুখোশধারী ডাকাত হাতে লাল-মেরুন রংয়ের প্লাস্টিকের টর্চ লাইট, কোরাবারি, রড/দরজা বাঁকা করার শাবল, চাপাতি, ছোরা, কিরিচ এবং লোকাল গান(LG) নিয়ে সেনবাগ থানাধীন ০৬নং কাবিলপুর ইউপির ০৭নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব কাবিলপুর সাকিনে জনৈক মোঃ হুমায়ুন কবির(৫০)(সাবেক মেম্বার) এর ১তলা বিল্ডিং ঘরের উত্তরমুখী বেলকনির প্লাস্টিকের দরজার চিটকিনি ভেঙ্গে বসত ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের লোকজনসহ তার বাড়ীতে বেড়াতে আসা বড় মেয়ে, শাশুরী, খালা শাশুরীদের পরনে ও বাড়ীতে থাকা সর্বমোট ০৫ ভরি ১১ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার, নগদ-১,৪৮,০০০/-টাকা, ০২টি স্মার্ট মোবাইলসহ সর্বমোট- ১০,৭৮,০০০/-(দশ লক্ষ আটাত্তর হাজার) টাকা মূল্যের মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ডাকাতদল রাত অনুমান ০১:৪০ ঘটিকা হতে ০২:১০ ঘটিকার মধ্যে জনৈক মোঃ হুমায়ুন কবির(৫০) এর বাড়ীতে ডাকাতি শেষে পার্শ্ববর্তী জনৈক কামাল পাটোয়ারীর বাড়ীতে দরজা ভেঙ্গে ঢুকার চেষ্টা করে। ডাকাতদল জনৈক কামাল পাটোয়ারীর বাড়ীতে লোহার দরজা ভেঙ্গে বাড়ীর ভিতরে প্রবেশে সক্ষম হতে না পেরে তারা সেখান থেকে ০২টি সিএনজি অটোরিক্সা যোগে পার্শ্ববর্তী গ্রাম মইজদীপুর সাকিনে সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের বাড়ীতে প্রবেশ করে তাহার মেয়ে ও স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আরো ০৮ ভরি স্বর্ণালংকার ডাকাতি করে নিয়ে যায় মর্মে জানা যায়। পরবর্তীতে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত মোঃ শহিদ মিয়া(৩৩), পিতা-মোঃ সিরাজ মিয়া, মাতা-মনোয়ারা বেগম, সাং-পশ্চিম ইয়ারপুর(মনির উদ্দিন পন্ডিত বাড়ী), কাবিলপুর ইউপি, থানা-সেনবাগ, জেলা-নোয়াখালীকে ধৃত করেন। ধৃতকালে মোঃ শহিদ মিয়া(৩৩) এর নিকট হতে ডাকাতির সময় লুন্ঠিত (৫০০ x ১০০)=৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকার ০১টি বান্ডেল এবং (১০০০ x ৪০) = ৪০,০০০/-(চল্লিশ হাজার) ০১টি বান্ডেলসহ সর্বমোট-৯০,০০০/-(নব্বই হাজার) টাকা এবং উক্ত ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ০১টি সিএনজি অটোরিক্সা, যাহার রেজিঃ নং-নোয়াখালী-থ-১১-৭৫৫৬, উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে তার প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সহিত জড়িত অপর আসামী মোঃ দ্বীন ইসলাম প্রঃ স্বপন(৩৮), পিতা-সুখ মিয়া, মাতা-মরিয়ম বিবি, সাং-বজরা(দাইয়া মিয়ার বাড়ী), থানা-সোনাইমুরী, জেলা-নোয়াখালী’কে বেগমগঞ্জ থানাধীন করিমপুর এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামী শাহাদাত হোসেন রিমন(৪১), পিতা-মোহাম্মদ উল্যাহ প্রঃ কালা মিয়া, সাং-পৌরকরিমপুর, থানা-বেগমগঞ্জ, জেলা-নোয়াখালী এর বাড়ীতে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনাকালে আসামী শাহাদাত হোসেন রিমন(৪১) তাহার বাড়ীর সাথে লাগানো পুকুরে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাহার বাড়ীতে তল্লাশী করে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত ০৫টি প্লাস্টিকের টর্চ লাইট, ০১টি চাইনিজ কোড়াল, ০১টি দা, ০১টি লোহার শাবল, ০১টি লোহার দামা, ০২টি ছোরা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ দ্বীন ইসলাম প্রঃ স্বপন(৩৮) এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জ থানাধীন চৌমুহনী পৌরসভস্থ করিমপুর দানা মিয়া হাজী বাড়ীর পূর্ব পাশে সবুজের গ্যারেজ হতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অপর একটি সিএনজি অটোরিক্সা, যাহার রেজিঃ নং-নোয়াখালী-থ-১১-৬৮৪৩, উদ্ধার করা হয়। উক্ত ঘটনায় জনৈক মোঃ হুমায়ুন কবির(৫০) বাদী হয়ে বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের সেনবাগ থানার মামলা নং-০৯, তারিখ-২৫/০৭/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু করা হয় এবং মামলার তদন্তভার এসআই(নিরস্ত্র) সনৎ বড়ুয়া এর উপর অর্পন করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে প্রদত্ত-উপাত্তের ভিত্তিতে ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত সকল মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।