রাজধানীর লেকশোর হোটেল, গুলশান-এ, শনিবার,১৭ই মে ২০২৫,জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন- এনডিএম এর অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জনাব তারেক রহমান এবং সভাপতিত্ব করবেন এনডিএম চেয়ারম্যান, জনাব ববি হাজ্জাজ। আমরা আশা করছি এই আয়োজনে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি দূতাবাসের কূটনীতিকবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থাকবেন। এই ঐতিহাসিক আয়োজনে আপনাদের উপস্থিতি ও সহায়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।
এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা জুলাই বিপ্লবের শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবো এবং আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবো। জুলাই আন্দোলনে অন্যতম অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে এনডিএম। আমাদের দলীয় চেয়ারম্যান জনাব ববি হাজ্জাজ সহ ৮০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী আহত হন, অনেকেই গুরুতরভাবে। কেউ কেউ গ্রেফতার এবং নির্যাতনের শিকার হন। তাদের সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ, ১৭ই মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমরা আহত যোদ্ধাদের অর্থ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করবো। আমরা বিশ্বাস করি যে জুলাই ছিল আমাদের সকলের আন্দোলন, এবং এর বীরেরা আমাদের জাতীয় গর্ব।
এনডিএম’ই ছিল প্রথম রাজনৈতিক দল, যারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ICT) আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আবেদন করে এবং শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনার ভাতিজি, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, তার মন্ত্রীত্ব হারান। এটি ছিল একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ, যা প্রমাণ করে সত্য ও সাহস নিয়ে এগোলে স্বৈরাচারী দুর্নীতির মুখোশ খুলে দেওয়া সম্ভব।এই আইনি লড়াই ছিল সুশাসনের পক্ষে এবং ইতিহাসে তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এনডিএম ছিল সরকারি নিপীড়নের শিকার প্রতিটি কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, দলীয় কার্যালয়ে হামলা, নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে। তবুও আমাদের মাননীয় চেয়ারম্যান, জনাব ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে, আমরা ৩০ টিরও বেশি জেলা ও ২০০-র বেশি উপজেলাজুড়ে সংগঠন গড়েছি। আমাদের চেয়ারম্যান প্রত্যেক এলাকাতেই একাধিকবার সফর করেছেন। আমাদের দলের নিবন্ধন অর্জন করতে হয়েছে রীতিমতো আইনি ও রাজনৈতিক যুদ্ধ করে, কিন্তু আমরা সফল হয়েছি। আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই এনডিএম কোনো সাময়িক রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়, এটি একটি জাতীয় দায়বদ্ধতা থেকে গড়ে ওঠা সংগ্রামী রাজনৈতিক শক্তি।
এই ১৭ই মে আমরা শুধু ৮ বছর পূর্তির উৎসব করবো না, আমরা দেশের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা করবো। আমাদের এই অনুষ্ঠানে-
• আমরা আহত জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তা প্রদান করবো।
• গণমাধ্যমের সামনে আমাদের ভবিষ্যতের রূপরেখা ও সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবো।
• চলমান রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের চেষ্টার অগ্রগতি জানাবো।
• দেশ গঠনে প্রস্তুত নেতৃত্বের পরিচয় তুলে ধরবো, যারা আগামী দিনে এনডিএমকে এগিয়ে নেবে।
এই অনুষ্ঠান একটি আদর্শ, নৈতিকতা ও সাহসিকতার মিলনমেলা, যেখানে আমরা রাজনীতিকে ক্ষমতার লোভ থেকে সরিয়ে জনসেবার প্রকৃত মানে তুলে ধরতে চাই। আপনারা এই বার্তা দেশজুড়ে পৌঁছে দিন বাংলাদেশের রাজনীতি বদলাচ্ছে, এবং সেই বদলের কেন্দ্রবিন্দুতে এনডিএম।
আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা কেবল একটি অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিচ্ছি না, আমরা একটি জাতীয় বিবেকের পুনর্জাগরণ শুরু করছি। একটি শুদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন এনডিএম বহন করে, তারই বার্তা আমরা পৌঁছে দিতে চাই আপনাদের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে।
আমার প্রিয় গণমাধ্যমের বন্ধুগণ, এই যাত্রায় আপনারা আমাদের সহযাত্রী আপনাদের কলম ও ক্যামেরাই পারে এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।