কর্মক্ষেত্রে শ্রম আইনের প্রয়োগসহ ৩ দফা দাবী জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। শনিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ফার্মা জব সংস্কার আন্দোলন’ ব্যানারে মানববন্ধন করে এ দাবিগুলো জানানো হয়।
তাদের বাকি দাবিগুলো হলো ওষুধ প্রতিষ্ঠান পুঞ্জের ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা এবং কোম্পানি কর্তৃক অনিয়ম, অনৈতিক ও অমানবিক কর্মকান্ড বন্ধ করা।
মানববন্ধনে, ফার্মা জব সংস্কার আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি এড, আতিকুর রহমান, শ্রম আইনের আইনজীবী এড, আলমগীর হুসাইন, এড মুহিবুল্লাহ খোকন এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ফারিয়ার উপদেষ্টা ও ফার্মা সংস্কার আন্দোলনের উপদেষ্টা লায়ন নজরুল ইসলাম, মোবারক হোসেন টিপু, সফিউর রহমান, কাওসার ভুইয়া, মাইনুল ইসলাম, জাফর আহমেদ, কেন্দ্রীয় ফারিয়ার একাংশের সভাপতি শফিক রহমান, একাংশের সভাপতি নুরুজ্জামানসহ ফার্মা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক, এহসান আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, সোহাগ হোসেন, জয়নাল আবেদীন, জহিরুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ তাদের দাবী শ্রম আইন বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে তাদের দাবীগুলো মেনে নেয়া হোক নচেত কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে যা ফার্মা সেক্টরের জন্য একটা বড় ক্ষতি।
শ্রমিক নেতা আতিকুর রহমান বলেন, ১০০% শিক্ষিত একটা পেশাকে দিনের পর দিন অধিকার আদায় থেকে বঞ্চিত করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, যা শ্রম আইনের লঙ্ঘন অতিসত্বর এর থেকে উত্তোরন করতে হবে।
মানববন্ধনে ফার্মা জব সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক শফিক রহমান বলেন, আমাদের ৩টি দাবীর প্রথম দাবী হচ্ছে, শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগ। এই শ্রম আইন যদি আমাদের উপর প্রয়োগ হয় তাহলে আমাদের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ দাবী আদায় হয়ে যাবে। তাই আমাদের উপর যেন শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হয়।
মানবন্ধনে অংশ নেওয়া আর এক নেতা জাফর আহমেদ বলেন, “চাকরিতে যোগদানের সময় ব্যাংকের ব্ল্যাঙ্ক চেক জমা নেওয়া, অবৈধ চুক্তি করা ও মূল সনদপত্র জমা নিয়ে চাকরি হতে অব্যহতি নেওয়ার পর হয়রানি করা হয়। আমরা এসব অনিয়ম মুক্ত কর্মস্থল চাই।”
ফার্মা জব সংস্কারের নেতা নুরুজ্জামান বলেন, “আমাদেরকে প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি দেওয়া হোক। আমারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে কোম্পানির সাথে আমাদের দুরত্ব বাড়ছে। যদি আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন থাকতো তাহলে আমরা কোম্পানির মালিকদের সাথে বসেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারতাম। কিন্তু আমরা যারা ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত আছি তাদের কোন ট্রেড ইউনিয়ন না থাকার ফলে আমাদের সমস্যা দিন দিন বাড়তেছে। তাই আমরা চাই আমাদেরকে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি দেওয়া হোক।”
ফার্মা জব সংস্কার আন্দোলনের প্রধাজ উপদেষ্টা বেলাল আহমেদ বলেন, এই সেক্টর দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লাভজনক সেক্টর। এই সেক্টরকে ডে বাই ডে যারা উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছে তারা হচ্ছে এই রিপ্রেজেন্টেটিভবৃন্দ। যারা এই সেক্টরের উন্নতি করতেছে অথচ তারাই আজ সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “এই সেক্টরের কর্মকর্তাদের কোন নীতিমালা নেই। তাদেরকে দিয়ে রোগীর ব্যবস্থা পত্রের ছবি তোলাচ্ছে, তাদেরকে সাপ্তাহিক কোন ছুটি ও সরকারি ছুটি তো দিচ্ছেইনা এর উপর দৈনিক ১৬-১৭ ঘন্টা কাজ করাচ্ছে। এইভাবে অনিয়ম ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে হতে তারা এবার আন্দোলনে মাঠে নেমেছে। এবং শান্তিপূর্ণ ভাবেই তারা এ আন্দোলন করার উদ্যেগ নিয়েছে। সরকারের উচিত তাদের এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে গ্রহণ করে দাবী দাওয়া মেনে নেওয়া কোম্পানির সাথে বসা এবং খুব শীঘ্রই এইসকল সমস্যার সমাধান করা।”
বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি কর্তৃক অনৈতিক, অনিয়ম ও অমানবিক কার্মকান্ড তুলে ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাদের অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সু-নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা না থাকা, সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারীছুটি না দেওয়া, যখন তখন চাকরিচ্যুত করা, রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলতে বাধ্য করা, মার্কেটে চাহিদার অতিরিক্ত টার্গেট চাপিয়ে দেওয়া, বছর শেষে ব্যাসিক ও গ্রোস সেলারি না বাড়ানো প্রভৃতি।