দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে, দেশের জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্খা পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের এই আকার বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য। দেশের জিডিপি’র আকার এবং অর্থনীতির পরিকাঠামো বৃদ্ধির সাথে সাথে বাজেটের আকারও প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিগত কয়েক বছরে যেখানে প্রায় ১০-১২ শতাংশ হারে বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে, এবার বাড়ানো হয়েছে ৫ শতাংশেরও কম।
আগামী ২০২৬ সালে দেশকে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশনের প্রাক্কালে অর্থনীতির মৌল কাঠামো, সামাজিক আয় ব্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে সব আরাদ্ধ কাজ রয়েছে তা সুসংগঠিত করনে এবারের বাজেটে নিদেনপক্ষে মধ্যমেয়াদী কিছু সংস্কার বা পদক্ষেপ গ্রহণের অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে। বাজেটে সে ব্যপারে দিক নির্দেশনা আরো বলিষ্ঠভাবে প্রস্তাবিত হওয়া দরকার এবং বাজেট বৃদ্ধি ৫ শতাংশের কম হওয়াটা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা আরো কঠিন হয়ে উঠবে।
বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দরকার সুশাসন ও যথাযথ মনিটরিং। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদীহিতা এবং তদারকির মান ক্রমাগতভাবে উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরী। এছাড়াও বাজেটে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে হবে।
বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬.৭৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জন্যও বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬.৫ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছর মে মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৮৯ শতাংশ । এ মূল্যস্ফীতির হারকে কমিয়ে এনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ বলে আইবিএফবি মনে করে। মূল্যস্ফীতির উর্দ্ধগতির লাগাম টেনে ধরতেই হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি বাড়বে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৫ লক্ষ ৪১ হাজার কোটি টাকা- যা জিডিপি’র ৯.৭%। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্য ৪ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আসবে ৬৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর রাজস্ব লক্ষমাত্রা (৪ লক্ষ ১০ হাজার এর স্থলে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার) যেভাবে বাড়ানো হয়েছে সে তুলনায় ’অন্যান্য খাত’ (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বহিভর্‚ত কর এবং কর বহিভর্‚ত আয়) বরং কমানো হয়েছে। সরকারী সংস্থা/কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্য এ দুখাতে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা না কমিয়ে বরং বাড়ানো হলে জাতীয় রাজস্ব বোড এর উপর লক্ষ্যমাত্রার চাপ আরো কমানো যেতো। এ বিশাল রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এমনিতেই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসহ রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া বিশ^ব্যাপী বিরাজমান কঠিন পরিস্থিতির কারণে চাপের মুখে।
লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতি প্রনয়ন ও রাজস্ব আহরণ কার্য পদ্বতিতে সংস্কার আনা জরুরী। সেসাথে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও বৃদ্ধির জন্য করের আওতা বাড়ানো, অনলাইনিকরণ, এবং উপজেলা পর্যন্ত কর অফিস বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইবিএফবি থেকে আমরা জাতীয় বাজেট পরামর্শক কমিটির সভায় সরকারের নিকট বিস্তারিত প্রস্তাবনা তুলে ধরেছিলাম।
প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ২ লক্ষ ৫৬ হাজার কোটি টাকা যা জিডিপি’র ৪.৬ শতাংশ। যদিও চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি রাখা ছিল ৫.২ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা নিতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিতে হবে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সেসাথে সরকারকে সুদের বোঝা টানতে হচ্ছে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অধিক মাত্রায় সরকারের ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান এনপিএল কমানো এবং অর্থ সরানো জাতীয় দুষ্টক্ষতের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থার পরিবর্তে যথাসম্ভব সুলভ সুদে ও সতর্কতার সাথে বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়নের জন্য নজর দেয়া যেতে পারে।
বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের (স্যোশাল সেফটি নেট) আওতা বাড়ানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা সুসংহত এবং সামাজিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভ‚মিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। সামাজিক সুরক্ষা বলয় বাজেট বরাদ্দে পেনশনের টাকা ধরায় এখানে প্রকৃত বৃদ্ধি নগণ্য হয়ে দাড়িয়েছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিকট যাতে এ সুবিধা যথাযথভাবে পৌছায় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অনুৎপাদনশীল এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে খরচ কমানোর পাশাপাশি বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অধিক শুল্ক আরোপ করে বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যেও আমদানী থামানো যাবে না, ডলার সাশ্রয় সম্ভব হবে না ব্যাপক আয় বৈষম্যের শিকার এই অর্থনীতিতে। বরং দেশীয় পণ্যেও উৎপাদন ব্যবস্থাকে সুরক্ষা সুষম উন্নয়নের স্বার্থে এ সব পণ্যেও আমদানী নিষিদ্ধ করা উচিত, ব্রান্ড বাংলাদেশ ধারণাকে প্রযতœ প্রদান করা উচিৎ। সকল ব্যায়ে এবং ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ী নীতি আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরী করতে সরকার দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কেননা সরকারী সেবা গ্রহণে যেভাবে পদে পদে বাড়তি খরচ বহন করতে হয তাতে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস যেমন বাড়ছে তেমনি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক সেবা প্রাপ্তিতেও নিজ নিজ পকেটের পয়সা বেশী ব্যয় করতে হচ্ছে। এখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনে কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রসূত নির্দেশনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় গৃহীত কাজের গুনগত মান বজায় রাখা ও দক্ষতার সাথে সময়মত কাজ সম্পন্ন করা জরুরী। পাশাপাশি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে – যাতে করে আমাদের উন্নয়ন টেকসই হয়।
বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধের এর ক্ষেত্রে আয়কর আইন অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনযোগ্য হওয়ায় এই ধরণের ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ অধিকহারে কমে যাবে, Gi d‡j আমদানিকৃত hš¿পাতি এবং কাঁচামালের চূড়ান্ত মূল্য বৃদ্ধিপাবে ফলে দেশে নতুন এবং আধুনিক শিল্পায়ন ব্যাহত হবে| অধিকন্তু দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশিক প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে পিছিয়ে পড়বে| ‡mখানে স্থানীয় ঋণের উপর আদায়কৃত সুদ সম্পূর্ণ করমুক্ত, যেখানে বৈদেশিক ঋণ/বিনিয়োগের সুদের/লাভের উপর উৎসে কর কর্তন আইন ও বিধি বিদেশী অর্থায়নেI বাধা সৃষ্টি করবে|
কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারী ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক আয় না থাকায় অনেকে জিরো রিটার্ন জমা করে থাকেন। কিন্তু কোন কারণে এক মাস রিটার্ন জমা করতে না পারলে তাদেরকে পরবর্তী মাসের রিটার্ন জমা দিতে না দেওয়া ও জরিমানার পরিমাণ বাড়তে থাকায় তাদের Business Identification Number (BIN) কে সচল রাখা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। সে কারণে এক মাসে রিটার্ন জমা প্রদানে সমর্থ না হলেও পরবর্তী জমা দেওয়া সুযোগ মেওয়া যেতে পাওে এবং জরিমানার অর্থ আদায়ে নোটিশ প্রদান করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কমিশনারগণ ’কেইস টু কেইস’ ভিত্তিতে জরিমানা ও সুদ মওকুফের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
বর্তমানে বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক আমদানিকৃত Finshed Generator এর CD ১% । প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ বাজেটে Generator manufacturing/ assembling কাঁচামাল (Engine, Alternator) এর উপরও ১% CD আরোপ করা হয়েছে যা পূর্বে ০% ছিল। এই শুল্ক আরপের ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। যদি বাণিজ্যিক আমদানিকারক এবং শিল্প আমদানিকারক এর শুল্ক হার একই হয়, তাহলে শিল্প উদ্যোক্তাগন ঝুকি নিয়ে উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবে এবং বানিজ্যকভাবে আমদানীকৃত Finished Generator এর সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত Generator Manufacturing কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এবং হাজার লোক বেকার হয়ে পড়বে। দেশীয় প্রযুক্তি নির্ভর প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “Made in Bangladesh” স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং “Smart Bangladesh” বিনির্মানে Diesel Generator asseembling/ manufacturing এর কাঁচামাল (Engine, Alternator) এর উপর আমদানি পর্যায়ে ১% CD প্রত্যাহার আবশ্যক। আরোপিত শল্ক প্রত্যাহার হলে
১) দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসার অব্যাহত থাকবে।
২) বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে ।
৩) আমদানি নির্ভরতা কমবে ।
৪) বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
৫) নতুন নতুন শিল্প উদ্যোক্তা বিনিয়োগে আগ্রহি হবে।
গার্মেন্টস খাতের ন্যয় উঠতি ও সমর্থন সেক্টরের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থাপনার সুযোগ সম্প্রসারিত করা যায়।
বৈশ্যিক উষ্ণায়নরে জন্য বায়ুমন্ডলে ক্ষতকির গ্রিণ হাউজ গ্যাস (জিএইসজি) তথা র্কাবন ডাই অক্সাইডরে নি:সরন বৃদ্ধিকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেরব চিহ্নিত করা হয়। বিশ্বব্যাপী মোট গ্রনি হাউজ গ্যাস (Carbon Dioxide Equivalent বা CO2e) নির্গমনকারী খাতসমূহরে মধ্যে পরবিহন সেক্টর হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত। ক্ষতকির গ্যাস নির্গমনে একটি র্কাযকরী বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্তিতকরনে করণে ইলকেট্রিক ভেহিকেলের প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক।
মুজবি ক্লাইমটে প্রোসপারিটি প্ল্যান ২০৩০ এবং National Determined Contributions (NDC) লক্ষ্যমাত্রা র্অজনে আগামী ২০৩০ সালরে মধ্যে দেশে প্রচলতি যানবাহনরে ৩০% ইলকেট্রিক ভেহিকেলে রূপান্তররে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়ছে। ইলকেট্রকি ভেহিকেল একটি নতৃন প্রযুক্তনির্ভির গাড়ি ও প্রচলতি ইঞ্জনিচালতি গাড়রি চেয়ে র্বতমানে ইলকেট্রকি গাড়রি মূল্য বেশি। এছাড়া আমাদরে দেশের মানুষ এখনও ইলকেট্রকি গাড়ি ব্যবহারে অভ্যস্থ নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে ইলকেট্রকি ভেহিকেল বাজারজাত করা সম্ভব হলে ভোক্তাগণ ইলকেট্রকি ভেহিকেল ব্যবহারে উৎসাহতি হবে।
আয়কর আইন, ২০২৩ ও কাস্টমস আইন, ২০২৩ বাস্তবায়নের শুরুতেই অনেকগুলি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩ ও কাস্টমস আইন, ২০২৩ ব্যবসা-বান্ধব ও রাজস্ব-বান্ধব করার উদ্দেশ্যে অংশীজনদের সাথে ব্যাপকভাবে পরামর্শ করার প্রয়োজন ছিলো। তাহলে শুরুতেই এতো বেশী সংশোধনের প্রয়োজন হতো না। আয়কর আইন ও কাস্টমস আইন যুগপোযোগী করার জন্য একটি কমিটি গঠনের জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। কমিটি গঠনের জন্য আমরা ইতিমধ্যে সরকারের নিকট প্রস্তাব পাঠিয়েছি।
অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর (এটি) ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং অগ্রিম কর (এটি) বিলুপ্ত করার জন্য প্রস্তাব করেছিলাম কিন্তু এ বিষয়ে বাজেটে কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি। অগ্রীম আয়কর যথাযথ সমন্বয়/রিফান্ড না হওয়ায় পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং চলতি মূলধনে প্রভাব পড়ে। অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং অগ্রিম কর (এটি) বিলুপ্ত করার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মূলধনী যন্ত্রাংশ ও নির্মাণ সামগ্রী আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ০% থেকে বৃদ্ধি করে ১% করা হয়েছে। এতে এসব বিশেষ অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিকট ভুল বার্তা যাবে।
কর আপীলাত ট্রাইব্যুনালে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন করা এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগীয় সদস্যকে ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট করার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম। বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যকে প্রেসিডেন্ট করার বিধান করা হয়েছে। এ প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। করদাতাদের প্রতি সুবিচার ও শোভন আচরণ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান ’কর ন্যয়পাল অফিস’প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পূনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।
পরিশেষে বলতে চাই, যথাযথ বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। রাজস্ব নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরী যাতে বিনিয়োগকারীগণ আস্থার সঙ্গে বাবসা- বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। এজন্য মূদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সুসমন্বয় রাখা জরুরী বলে আমরা মনে করি।
বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংকটের মধ্যে হাজারও সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকুলতা সত্তেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন, জনকল্যাণমূখী ও ব্যবসা-বান্ধব বাজেট দেয়ার জন্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।