• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বাজুস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ১০, ২০২৪
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বাজুস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য

সারাদেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন – বাজুস প্রেসিডেন্ট জনাব সায়েম সোবহান আনভীর সহ আমাদের সকল নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায়, বাজুসের মুখপাত্র ও সাবেক সভাপতি এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. দিলীপ কুমার রায়, বাজুসের উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, বাজুসের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ এন্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ এন্ড ট্যাক্সেশনের সদস্য সচিব ও কার্যনির্বাহী সদস্য পবন কুমার আগরওয়াল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে ও তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার ভিশন-২০৪১ সফল করতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন-বাজুস সর্বদা সচেষ্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও বুদ্ধিদীপ্ত দূরদৃষ্টির কারণে আজকের বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চলেছে। সরকারের সাফল্য যাত্রায় অংশীজন হতে চেষ্টা করছে বাজুস। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জুয়েলারি শিল্প সম্পর্কিত ‘স্বর্ণ নীতিমালা-(২০১৮) সংশোধিত-২০২১’ সংশোধনের ৩ বছর পরেও বাস্তবায়ন হয়নি। অসম শুল্ক-কর কাঠামো, প্রাথমিক কাচাঁমাল ও মেশিনারিজ আমদানীতে কালক্ষেপণ ও অতিরিক্ত শুল্কব্যয়, সঠিক নীতিমালার অভাব এই খাতকে দেশীয় অর্থনীতি থেকে পশ্চাৎপদেই ধাবিত করেছে।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি গত ৬ জুন ২০২৪ জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের ৫৩তম বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার। এবারের বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম ছিল “সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার”। প্রস্তাবিত বাজেটে ঝবসর গধহঁভধপঃঁৎবফ এড়ষফ এর ক্ষেত্রে অওঞ (অফাধহপব ওহপড়সব ঞধী) বাতিল করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাগেজ রুল প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেছেন- “মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্যাসেঞ্জার আসার ক্ষেত্রে কাস্টমস শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার জন্যে ২৪ ক্যারেটের গহনার উপর হালকা ডিজাইন করে সোনার অলংকার বলে নিয়ে আসে। সেক্ষেত্রে ধারা-২, ব্যাগেজ রুল ২০২৩ এর ক্ষেত্রে সোনার অলংকারের সংজ্ঞা সংযোজন করার প্রস্তাব জ্ঞাপন করছি।” বাজুস অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছে। অর্থমন্ত্রীর এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

বাজুস মনে করে- ব্যাগেজ রুল সংশোধন করার মাধ্যমে, সোনার বার ও রূপার বার আনা বন্ধ করতে হবে। কারণ ব্যাগেজ রুলের সুবিধা নিয়ে অবাধে সোনার বার বা পিন্ড বিদেশ থেকে দেশে প্রবেশ করছে। চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। যদিও প্রকৃত অর্থে সোনা চোরাচালান বন্ধে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি প্রস্তাবিত বাজেটে।

প্রস্তাবিত বাজেট জুয়েলারি শিল্পের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এনবিআরের পক্ষ থেকে প্রাক-বাজেট বৈঠকগুলোতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও দাবি পূরণে দফায় দফায় আশ^াস দেওয়া হলেও, প্রস্তাবিত বাজেটে তার কোন প্রতিফলন নেই। বারবার বৈধ পথে সোনার বার, কয়েন ও সোনার অলংকার তৈরি ও রপ্তানিতে উৎসাহ প্রদান করা হবে বলা হলেও, এই খাত সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল ও মেশিনারিজ আমদানীর উপর অসম শুল্ক হারের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় পর্যায়ে জুুয়েলারি অংলকার বিক্রির ওপর রয়েছে ৫ শতাংশ ভ্যাট। ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে অপরিকল্পিত উৎসে কর হারের বোঝা। এভাবে অপরিকল্পিত আমদানী শুল্ক-কর হার, শুল্ক-কর এবং কাঠামোগত শুল্ক ও শিল্পবান্ধব নীতি প্রণয়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতা জুয়েলারি শিল্পকে পিছিয়ে দিয়েছে।

দেশের জুয়েলারি খাতকে গার্মেন্টস শিল্পের ন্যায় রপ্তানীমুখী শিল্প হিসাবে পরিচিতির লক্ষ্যে এই খাতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা ও মেশিনারিজ আমদানীতে শুল্ক কর রেয়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পীদের হাতে তৈরী গহনা স্থানীয় ও বিশ্ব বাজারে সমানভাবে সমাদৃত। কিন্তু এই খাতের সঠিক পরিচর্যার অভাবে স্থানীয় স্বর্ণ শিল্পীগণ কাজের অভাবে দু:খ-দুর্দশায় জীবন-যাপন করছেন। স্থানীয় কারিগররা পেশা বদল করে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এই সঙ্কট মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

গত ৩ এপ্রিল ২০২৪ আমরা প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। সেখানে আমরা ১৫ টি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলাম। যা ছিল আমাদের জুয়েলার্স মালিকদের আশার প্রতিফলন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একটি দাবিও পূরণ হয়নি। ফলে জুয়েলারী শিল্পকে হুমকির মুখে পড়েছে।

বাজুস আবারো প্রস্তাব করছে সোনার অলংকার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট হার কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হোক। তাতে একদিকে ক্রেতা সাধারণ ভ্যাট প্রদানে উৎসাহিত হবেন, অন্যদিকে জুয়েলারি খাত থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হবে।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট চুড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাজুসের ১৫টি প্রস্তাব পুনঃবিবেচনার দাবি করছি।

বর্তমানে জুয়েলারি ব্যবসার ক্ষেত্রে সোনা, সোনার অলংকার, রূপা বা রূপার অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হোক।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিনিময় মূল্যের কারণে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম (১ ভরি) সোনার অলংকার কিনতে প্রায় ১,১৭,১৭৭/- (২৫ মে, ২০২৪ এর তথ্য অনুসারে) টাকা লাগে। এর সাথে বাজুস নির্ধারিত নূন্যতম মজুরী ৭,০৩১/- টাকা এবং ৫ শতাংশ ভ্যাট ৬,২১০/- টাকা যোগ করলে মোট মূল্য দাঁড়ায় ১,৩০,৪১৮/- টাকা। বাংলাদেশে প্রতি ভরিতে ভ্যাট দিতে হয় ৬,২১০/- টাকা অন্যদিকে ভারতে সমপরিমান সোনা কিনতে ৩ শতাংশ হারে বা ৩,৪৩৬/- টাকা ভ্যাট দিতে হয়। যার প্রভাব সোনার অলংকার ক্রয় ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সু¯পষ্ট বিদ্যমান। অথচ বাংলাদেশের অলংকার শিল্পের অপার সম্ভাবনা আছে। ভ্যাট আহরণে আগামী দিনে সরকারের একটি বড় খাত হতে পারে জুয়েলারি শিল্প। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছে সহনীয় আকারে ভ্যাট নির্ধারণ করা জরুরি।
বাজুস মনে করে- সোনার অলংকার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা দরকার। এতে সোনা খাত থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।

ঊঋউ গধপযরহব যতো দ্রুত সম্ভব নিবন্ধনকৃত সকল জুয়েলারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করতে হবে।
সরকার কর্তৃক বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঊঋউ গধপযরহব বসানোর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বাজুসের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু যে সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এখনো ঊঋউ গধপযরহব বসানো হয় নাই, সেই সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঊঋউ গধপযরহব বসানো জরুরি।
সারাদেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঊঋউ গধপযরহব বসানো হলে সরকার বিপুল পরিমানে রাজস্ব আয় করতে পারবে। ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমতা আসবে।

অপরিশোধিত স্বর্ণ আকরিক (এড়ষফ ঙৎব) এর ক্ষেত্রে আরোপিত সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আমদানী শুল্ক শর্তসাপেক্ষে আইআরসি ধারী এবং ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের ক্ষেত্রে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুধুমাত্র জুয়েলারি খাতের জন্যে রেয়াতি হারে ১ (এক) শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছে বাজুস।
দেশের সোনার চাহিদা পূরণ করার স্বার্থে গোল্ড রিফাইনারী শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি একটি ভ্যাট নিবন্ধনকারী শিল্প এবং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল শিল্প। দেশের চাহিদা শুধু নয় বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এড়ষফ ঙৎব আমদানি করার যদি সঠিক সুযোগ দেয়া হয় যেমন: সরকার কর্তৃক আরোপকৃত শুল্ককর ৫ শতাংশের পরিবর্তে যদি ১ শতাংশ করা হলে সোনা চোরাচালান বন্ধ হবে। সরকার অধিক রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। আমদানিকারকগণ পরিশোধন পরবর্তী আন্তর্জাতিক মূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে চঁৎব এড়ষফ পৌছে দিতে পারবেন।

আংশিক পরিশোধিত স্বর্ণ (এড়ষফ উড়ৎব) এর ক্ষেত্রে সিডি ১০ শতাংশের পরিবর্তে আই আর সি ধারী এবং ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট শিল্পের জন্য শুল্ক হার ৫ শতাংশ করা হোক।
এড়ষফ উড়ৎব এর ক্ষেত্রে বর্তমানে সরকার কর্তৃক আরোপকৃত শুল্ককর ১০ শতাংশ বহাল আছে। এর পরবর্তীতে যদি বাজুসের দাবিকৃত শুল্ককর এড়ষফ উড়ৎব ৫ শতাংশ করা হয় তবে আমদানিকারকগণ পরিশোধন পরবর্তী আন্তর্জাতিক মূল্যের ভিত্তিতে দেশের ব্যবসায়িদের কাছে চঁৎব এড়ষফ পৌছে দিতে পারবেন।
এর সাথে বাংলাদেশে সোনার মূল্য বহিঃর্বিশ্ব থেকে পদ্ধতিগত কারণে বেশি হওয়াতে ক্রেতা সাধারণ দেশের বাজার থেকে সোনার অলংকার ক্রয়ে নিরুৎসাহিত হয়ে বিদেশ থেকে সোনার অলংকার কিনে আনছেন। এ কারণে যে পরিমাণ ডলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে তা দেশের অর্থনীতির জন্যে হুমকিস্বরূপ। তাই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, পরিকল্পনা ও শুল্কনীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে এড়ষফ উড়ৎব আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি।

সোনা পরিশোধনাগার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে সোনার বর্জ্য (ঈড়হপবহঃৎধঃবফ ঙৎব) ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত শুল্ক হার নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।

বর্তমান হার প্রস্তাবিত হার
ঈউ – ৫ ঈউ -১
জউ – ০ জউ – ০
ঝউ – ০ ঝউ – ০
ঠঅঞ-১৫ ঠঅঞ- ০
অঞ- ৫ অঞ- ০
অওঞ- ৫ অওঞ- ০

সোনা পরিশোধনাগার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে সোনার বর্জ্য (ঈড়হপবহঃৎধঃবফ ঙৎব) ব্যবহারের জন্য শর্তসাপেক্ষ্যে ১ শতাংশ শুল্ক দিয়ে আনার সুযোগ দিলে এ শিল্পের কাঁচামালের যোগান নিরবিচ্ছিন্ন থাকবে। ফলে এ শিল্প ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে।

হীরা কাটিং এবং প্রক্রিয়াজাত করণের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা আমদানিকৃত রাফ ডায়মন্ডের (জড়ঁময উরধসড়হফ) প্রস্তাবিত শুল্ক হার নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।

বর্তমান হার প্রস্তাবিত হার
ঈউ – ২৫ ঈউ – ০২
ঝউ – ২০ ঝউ – ০০
ঠঅঞ – ১৫ ঠঅঞ – ৫
অওঞ – ৫ অওঞ – ০
জউ – ৩ জউ – ৩ (২০২৪-২৫ এ সংশোধিত)
অঞ – ৫ অঞ – ৩

প্রস্তাবনা অনুযায়ী অমসৃন হীরা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস করা হলে এদেশের ডায়মন্ড শিল্প বিকশিত হবে। যার ফলে শুল্ক কমানো হলে হীরক খচিত অলংকার দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

বহিঃর্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের জুয়েলারি শিল্পের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও খধন এৎড়হি উরধসড়হফ এর বাজার বিস্তার লাভ করছে। বর্তমানে ভারতে খধন এৎড়হি উরধসড়হফ এর বাজার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা সম পরিমাণের এবং দিন দিন এই অংক বেড়ে যাচ্ছে। তাই বাজুস খধন এৎড়হি উরধসড়হফ এর ঐ.ঝ ঈড়ফব (৭১০৪.২১.১০) অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রস্তাবিত শুল্ক হার নির্ধারণ করার প্রস্তাবনা প্রদান করছে।
বর্তমান হার প্রস্তাবিত হার
ঈউ – ৫ ঈউ – ০২
ঝউ – ০ ঝউ – ০
ঠঅঞ – ১৫ ঠঅঞ – ১০
অওঞ – ৫ অওঞ – ৫
জউ – ০ জউ – ০
অঞ – ৫ অঞ – ৩

উরধসড়হফ এর ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতার বিশ^াসের সুযোগ নিয়ে ঠকিয়ে মোজানাইট, জার্কান পাথরের মতো নিম্নমানের পাথরকে উরধসড়হফ বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
খধন এৎড়হি উরধসড়হফ কে পরিবেশ বান্ধব ডায়মন্ড বলা হয়। পাশাপাশি খধন এৎড়হি উরধসড়হফ তৈরিতে প্রকৃতি প্রদত্ত উরধসড়হফ এর বীজ প্রয়োজন। তাই এই ডায়মন্ডের গাঠনিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি প্রকৃতি প্রদত্ত ডায়মন্ডের মতো হয়ে থাকে। এটা মানুষের তৈরী হওয়ার কারণে এর প্রকৃতি প্রদত্ত ডায়মন্ড থেকে প্রায় ৫০-৭০ শতাংশ মূল্য কম হয়ে থাকে। খধন এৎড়হি উরধসড়হফ এর আন্তর্জাতিক বাজার আস্তে আস্তে বিস্তার লাভ করছে। এখনই সময় বাংলাদেশে খধন এৎড়হি উরধসড়হফ এর আমদানীর সুযোগসহ বিভিন্ন সুবিধাদি প্রদান করা। যাতে পরবর্তীতে বিশ^ দরবারে বাংলাদেশ নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

বৈধ পথে মসৃন হীরা আমদানীতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্বারা আমদানীকৃত মসৃন হীরা (চড়ষরংযবফ উরধসড়হফ) ৪০ শতাংশ ঠধষঁব অফফরঃরড়হ করার শর্তে প্রস্তাবিত শুল্ক হার নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।

বর্তমান হার প্রস্তাবিত হার
ঈউ – ২৫ ঈউ – ২৫
জউ – ৩ জউ – ০৩
ঝউ – ৬০ ঝউ – ২০
ঠঅঞ – ১৫ ঠঅঞ – ১৫
অঞ- ৫ অঞ – ৫
অওঞ- ৫ অওঞ – ৫

এদেশের হীরার চাহিদার শতকরা ১০০ ভাগই বিদেশ থেকে আসে। যার ফলে প্রচুর পরিমান দেশীয় মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। বৈধ পথে মসৃন হীরা আমদানিকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য সকল ধরণের শুল্ক কর সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। আবার ভবিষ্যতে হীরার অলংকার রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

আয়কর আইন ৪৬-(বিবি)(২) ধারার অধীনে এড়ষফ জবভরহবৎু বা স্বর্ণ পরিশোধনাগার শিল্পে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডে প্রদানের প্রস্তাব করা হলো।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সর্ব প্রথম সোনা পরিশোধনাগার স্থাপন করতে যাচ্ছে। বিশ্ব বাজারে আর কিছু দিন পর রপ্তানি হবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ সম্বলিত সোনার বার। যা সোনা শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে বড় ভূমিকা পালন করবে। ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত-২০২১)’ এর ৯.৩ উপধারায় বর্ণিত আছে ‘বৈধভাবে স্বর্ণালঙ্কার, স্বর্ণবার, স্বর্ণ কয়েন রপ্তানি উৎসাহিত করতে রপ্তানিকারকদেরকে স্বর্ণালঙ্কার, স্বর্ণবার, স্বর্ণ কয়েন তৈরীর কাঁচামাল আমদানীর ক্ষেত্রে রেয়াতসহ বিভিন্ন প্রকারের প্রণোদনামূলক বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে। কিন্তু এই পরিশোধনাগারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির শুল্ক কর ৩০-৬০ শতাংশ, অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশী। যার কারণে প্রাথমিক উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তাই এই পরিশোধনাগারকে ঈড়ংঃ ঊভভবপঃরাব করার লক্ষ্যে কর অবকাশ বড় ভূমিকা পালন করবে।

সোনার অলংকার প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও মেশিনারিজের ক্ষেত্রে সকল প্রকার শুল্ক কর অব্যাহতি প্রদান সহ ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে প্রদানের প্রস্তাব করা হলো।
আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে আমাদের স্থানীয় বাজারে সবসময় সোনার মূল্য ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম বা ভরি প্রতি ৮-১০ হাজার টাকা বেশি হয়ে থাকে। যার অন্যতম কারণ কাঁচামাল ও মেশিনারিজ আমদানিতে অসহনীয় শুল্ক হার। ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত-২০২১)’ এর ৯.৮ উপধারায় বর্ণিত আছে ‘হস্তনির্মিত ও মেশিনে তৈরী অলংকার রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনা সুবিধা প্রদান করা হবে।’ উক্ত ধারার আলোকে ভোক্তা সুবিধা প্রদান ও মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বাজুস উল্লেখিত প্রস্তাবনার প্রণোদনার দাবি জানাই।

আয়কর আইন, ২০২৩ এর ১৪০ (৩) (ক) ধারা অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনের দায়িত্ব প্রাপ্ত “নির্দিষ্ট ব্যক্তি” এর আওতায় দেশের জুয়েলারি শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর-অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানাচ্ছে বাজুস।
সোনা একটি মূল্যবান ধাতু এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিনিময়যোগ্য হওয়ায় এর মূল্য সবসময় আন্তর্জাতিক বাজার দরের সাথে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়। যার ফলে পরিমাপগত লেনদেনের বিপরীতে আর্থিক মূল্যমানের পরিমাণ অনেক বেশী হয়ে থাকে। পাশাপাশি এই ধাতুর পূনঃবিক্রয়যোগ্য বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে স্থানীয় ক্রেতাদের সঞ্চয় ও ¯িপড-মানির অন্যতম অবলম্বন হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
অন্যদিকে স্থানীয় জুয়েলারি শিল্পের সোনার অন্যতম উৎস পরিশোধনকৃত পুরাতন সোনা। এমতাবস্থায় জুয়েলারি শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের উপর প্রবর্তিত উৎসে করের ভুক্তভোগী হবে শুধুমাত্র শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাই। কারণ সোনার মূল্যমান অনেক বেশী হওয়ায় বাৎসরিক লেনদেনের সর্বশেষ হিসাব মতে উৎসে করের সর্বোচ্চ করহারের আওতায় পড়বে জুয়েলারি ব্যবসায়ীগণ।
এমতাবস্থায় এই অপরিকল্পিত উৎসে কর প্রবর্তনের কারণে সোনা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুনাফার হার খুবই সংকোচিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক মুনাফা ধরে রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীগণ সোনার মূল্যের সাথে উৎসে করের হার সমন্বয় করতে বাধ্য হবে। ফলশ্রুতিতে জুয়েলারি পণ্যের স্থানীয় বাজারমূল্য বর্তমান মূল্যের থেকে প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা বেশী হবে।
ফলস্বরূপ দেখা যাবে স্থানীয় জুয়েলারি শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে এবং ক্রেতা সাধারণ দেশের বাইরে থেকে জুয়েলারি পণ্য কিনতে অধিক উৎসাহিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোনা খাত নিয়ে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন তা এই অপরিকল্পিত উৎসে করের কারণে মুখ থুবড়ে পড়বে।

‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত-২০২১)’ এর ৮.২ উপধারার অনুসারে ব্যাগেজ রুল সংশোধনের মাধ্যমে পর্যটক কর্তৃক সোনার বার আনা বন্ধ করা এবং ট্যাক্স ফ্রী সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে ১০০ গ্রামের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম করার প্রস্তাবনা করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে একটি আইটেমের জুয়েলারি পণ্য দুইটির বেশি আনা যাবে না এবং পার্শ^বর্তী দেশগুলোর সাথে ব্যাগেজ রুলের সমন্বয় করার দাবি জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে একজন যাত্রী বছরে শুধুমাত্র একবার ব্যাগেজ রুলের সুবিধা নিতে পারবে। এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হোক।
ব্যাগেজ রুলের আওতায় সোনার বার ও অলংকার আনার সুবিধা অপব্যবহারের কারণে ডলার সংকট, চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং-এ কী প্রভাব পড়ছে তা নিরূপনে বাজুসকে যুক্ত করে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা করার প্রস্তাব করছি।

বাজুসের প্রাথমিক ধারণা- প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার করে প্রতিদিন সারাদেশের জল, স্থল ও আকাশ পথে কমপক্ষে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার অবৈধ সোনা ও হীরার অলংকার ও বার চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে। যা ৩৬৫ দিন বা একবছর শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। দেশে চলমান ডলার সঙ্কটে এই ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার অর্থপাচার ও চোরাচালান বন্ধে প্রস্তাবিত বাজেটে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে সোনার বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে চোরাকারবারিদের দেশি-বিদেশি সিন্ডিকেট। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে প্রতিনিয়ত স্থানীয় পোদ্দার বা বুলিয়ন বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হচ্ছে। পোদ্দারদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সোনার পাইকারি বাজার। পোদ্দারদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সিন্ডিকেটের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে স্থানীয় পোদ্দার বা বুলিয়ন বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হচ্ছে।
এমতাবস্থায় ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত-২০২১)’ এর ৮.০ ধারায় স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কারের অনানুষ্ঠানিক আমদানি নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে এবং ৮.২ উপধারায় প্রয়োজনে ব্যাগেজ রুল সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। সোনার অনানুষ্ঠানিক আমদানি নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ব্যাগেজ রুলের সংশোধন এখন সময়ের দাবি। তাই বাজুস অবিলম্বে ব্যাগেজ রুল সংশোধনের মাধ্যমে পর্যটক কর্তৃক সোনার বার আনা বন্ধ করা এবং ট্যাক্স ফ্রী সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে ১০০ গ্রামের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম করার প্রস্তাবনা করছে।

বৈধভাবে সোনার বার, সোনার অলংকার, সোনার কয়েন রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে কমপক্ষে ২০ শতাংশ ঠধষঁব অফফরঃরড়হ করা শর্তে রপ্তানিকারকদের মোট ঠধষঁব অফফরঃরড়হ এর ৫০ শতাংশ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করছি।
বাংলাদেশের শিল্পীদের হাতে তৈরী সোনার অলংকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে। কিন্তু নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার কারণে সোনা শিল্প দেশের রপ্তানি খাতে যতটুকু অবদান থাকার কথা ছিলো তার সিকিভাগও হয়নি। তাই দেশের রপ্তানি খাতে সোনা শিল্পের অবদান বাড়াতে এই প্রণোদনা বড় ভূমিকা পালন করবে।

ঐ.ঝ. ঈড়ফব ভিত্তিক অস্বাভাবিক শুল্ক হার সমূহ হ্রাস করে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে শুল্ক হার সমন্বয়সহ এসআরও সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করছি।**
আমাদের ঐ.ঝ ঈড়ফব ভিত্তিক শুল্ক হার ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের শুল্ক হারের সাথে অনেক বড় ধরণের ব্যবধান বিদ্যমান। যার কারণে এইসব মেশিনারিজ ও কাঁচামাল আমদানির প্রাথমিক পর্যায়েই ব্যয় বেশি হয়ে যায়। তাই ঐ.ঝ. ঈড়ফব ভিত্তিক শুল্ক হার সমন্বয় করা গেলে প্রাথমিক পর্যায়েই ব্যয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০২২ ধারা-১২৬ক অর্থ আইন, ২০১৯ (২০১৯ সালের ১০নং আইন) এর ১০২ ধারাবলে, চোরাচালান প্রতিরোধ করতে গিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহের উদ্ধারকৃত সোনার মোট পরিমানের ২৫ শতাংশ উদ্ধারকারী সংস্থা সমূহের সদস্যদের পুরস্কার হিসেবে প্রদানের প্রস্তাব করছি।
বাজুস মনে করে- কোন দুস্কৃতিকারী, চোরাকারবারী যাতে দেশবিরোধী ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাহসী হস্তক্ষেপের কারণে সোনা চোরাচালান কমানো অনেকাংশেই সম্ভব হচ্ছে। তাই সোনা চোরাচালান রোধে আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থার সদস্যগণের ভূমিকা আরো জোরদার করার লক্ষ্যে এই পুরস্কার প্রদান তাদেরকে আরো উৎসাহিত করবে।

বাজুসের পক্ষ থেকে আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে আমাদের বাজেট প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। গত কয়েকটি বছরের প্রাক- বাজেটে বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান বাজুসের দাবি পূরণের অঙ্গিকার করলেও, বাস্তবে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন। জুয়েলারি শিল্পে যখন নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার উৎসাহ প্রদান করছে বাজুস, তখন এনবিআর নীতি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসছে না। পাশাপাশি সারাদেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি করছে। ১০ টাকা ভ্যাট আদায়ের আড়ালে ৯০ টাকা ঘুষ নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে এনবিআরকে বেরিয়ে আসতে হবে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেট চুড়ান্তকরণের সময় আমাদের প্রস্তাব সমূহ পুন:বিবেচনার দাবি করছি। চুড়ান্ত বাজেটে আমাদের দাবির প্রতিফলন না হলে, জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া গতি থাকবে না।

পরিশেষে- সাংবাদিক বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয়ের আলোকে প্রশ্নত্তোর পর্বে স্বাগত জানাচ্ছি। পাশাপাশি জুয়েলারি শিল্পের উন্নয়নের গণমাধ্যম বন্ধুদের সহযোগিতা কামনা করছি।