পানি সম্পদ সচিব নাজমুল আহসান বলেছেন, শেরপুরে সাম্প্রতিক বন্যায় নদী ও বাঁধ ভেংগে যে সকল স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসকল স্থানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেকসই ও দৃশ্যমান বাঁধ নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এসেছি আপনাদের মতামত জানতে। সে সাথে আমার সংগে টেকনিক্যাল টিম রয়েছেন। আপনাদের মতামত ও টেকনিক্যাল টিমের মতামতকে সমন্বয় করে আমরা এ এলাকার নদী ভাংগন রোধে তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করব। সচিব নাজমুল আহসান আজ বিকেলে শেরপুর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে শেরপুরে সাম্প্রতিক বন্যায় নদী/ বাঁধ ভাঙ্গন ও করণীয় বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা এখন তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নদীর বাঁধের স্থানসমূহে জিও ব্যাগ ডাম্পিং, বালি ও সিমেন্ট মিক্স ব্যাগ প্লেসিং করব। তিনি বলেন, উজানের ঢলে নদীগুলোতে জমে থাকা পলিমাটি ও চর অপসারণ করে নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া, নদী ও খালের গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে শেরপুর জেলায় নদী ও খাল দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করতে পানি সম্পদ সচিব জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। শেরপুরে সাম্প্রতিক বন্যায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা ঋণগ্রস্ত তাদের ঋণের কিস্তি পিছিয়ে দেওয়া যায় কিনা এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আলাপ করবেন বলে মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ সচিব বলেন। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন কোনোভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে না পড়েন সেদিকে আমাদের সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সচিব আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় এখানে কৃষি,মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন সেক্টরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এগুলো এড্রেস করতে আমাদের সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এর আগে আজ শনিবার সকালে পানি সম্পদ সচিব ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের রামের কুড়া, নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তর গড়কান্দা, কুলপাড়া, নিচপাড়া শ্মশানঘাট ও মন্দির এলাকা এবং চেল্লাখালী বাজার হতে সন্ন্যাসীরভিটা গ্রাম পর্যন্ত মহারশি, ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ এনায়েত উল্লাহ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা জোনের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেরপুরের প্রতিনিধিগণসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী’র ওপর দিয়ে প্রবাহিত মহারশি, ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে মতামত ব্যক্ত করেন।