আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলায় নজর কাড়ছে ‘দি লেবেল কিং’-এর উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী প্যাকেজিং সলিউশন
আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলায় নজর কাড়ছে ‘দি লেবেল কিং’-এর উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী প্যাকেজিং সলিউশন
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
বাংলাদেশ: রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে ১৮তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলা। চার দিনব্যাপী এই মেলায় সব মিলিয়ে ৮০০টি স্টল রয়েছে, যেখানে দেশের ১৬০টি ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও চীন, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশের ৩৯০টির বেশি ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করছে। এই বিশাল আয়োজনে সম্পূর্ণ নতুন ও সাশ্রয়ী প্যাকেজিং কনসেপ্ট নিয়ে দর্শকদের বিশেষ নজর কাড়ছে রাজধানীর লালবাগের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘দি লেবেল কিং’।
আজ বুধবার মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় ‘দি লেবেল কিং’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ সিরাজ উদ্দিন (MD Sirajuddin)-এর সাথে। তিনি বলেন, “আমরা গত তিন বছর ধরে এই মেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করছি। আমাদের এবারের মূল লক্ষ্য হলো প্যাকেজিংয়ে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু করা। সেই তাড়না থেকেই আমরা চায়না ও তাইওয়ান ভ্রমণ করে বিশেষ এক উদ্ভাবনী কনসেপ্ট নিয়ে এসেছি, যা বর্তমান বাজারের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী।”
সিরাজ উদ্দিন আরও জানান, বর্তমানে বাজারে প্রচলিত বক্স বা প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ খরচ হয়, অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি দাম দিতে হয় গ্রাহককে। কিন্তু তাদের এই নতুন প্রযুক্তির ফলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ হয়তো ব্যয়বহুল লাক্সারি প্যাকেজ খোঁজে, তবে যারা মানসম্মত অথচ সাশ্রয়ী প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসা প্রসার করতে চান, তাদের জন্যই আমাদের এই প্রচেষ্টা।”
বিদেশের বিভিন্ন প্রদর্শনী ও কারখানা পর্যবেক্ষণ করে ‘দি লেবেল কিং’ সরাসরি বিদেশ থেকে আধুনিক মেশিনারিজ আমদানি করেছে। মূলত তাইওয়ান ও ইন্ডিয়ার উন্নত প্রযুক্তি এবং কাঁচামাল ব্যবহার করে এখন বাংলাদেশেই আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কম মূল্যে বিশ্বমানের সেবা পাবেন।
ব্যবসায়িক প্রসারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে সিরাজ উদ্দিন বলেন, “সরকার যদি আমাদের বিপি (BP) এবং গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের মতো কারিগরি ও অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে, তবে আমরা এই উদ্ভাবনকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারব। এটিই সরকারের কাছে আমাদের বিশেষ আবেদন।”
তিনি দেশের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর প্রতি দেশীয় সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের দেশে এখন এমন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের ৫০ হাজার, ২০ হাজার বা ১০ হাজার প্যাকেটের অর্ডার অনায়াসেই দেশীয় প্রযুক্তিতে পূরণ করা সম্ভব। আমরা চাই দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের মাধ্যমেই তাদের প্রয়োজনীয় সরবরাহ গ্রহণ করুক।”
মেলায় আগত দর্শনার্থী এবং উদ্যোক্তাদের ‘দি লেবেল কিং’-এর স্টল পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, এই নতুন প্রযুক্তির হাত ধরে দেশের প্যাকেজিং শিল্পে এক নতুন বিপ্লব সূচিত হবে।