বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর ত্বরান্বিত করা এবং শ্রমবাজারের পরিধি বাড়ানোর প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় এক ঐতিহাসিক যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই রাষ্ট্রীয় সফরে যান।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর এটিই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর।
আজকের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ঐ সফরগুলো দুই দেশের রাজনৈতিক ও শ্রমবাজারের মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ তুলে ধরা হলো:
প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং আরও বেশি জনশক্তি নিয়োগের অনুরোধ জানান। একই সাথে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং ডিটেনশন সেন্টারে থাকা বাংলাদেশিদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান। উভয় নেতাই মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং স্বল্প ব্যয়ে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল ইকোনমি এবং হালাল শিল্পে বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানান। দুই দেশের মধ্যে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ (FTA) স্বাক্ষরের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, আসিয়ানের (ASEAN) ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়া এবং ‘আরসিইপি’ (RCEP)-তে যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থীতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সহ নানা বৈশ্বিক ইস্যুতে দুই দেশ একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক ও নথি স্বাক্ষরিত এবং বিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের সদয় আমন্ত্রণ জানান।