নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করতে।
‘মাস্টারকার্ড সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ’ ও কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘শপআপ’ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। এই উদ্যোগের আওতায় গেটস ফাউন্ডেশন-এর সহায়তায় ‘পড়শি’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি মাস্টারকার্ড-এর বৈশ্বিক “স্ট্রাইভ” উদ্যোগের অংশ, যার উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ১,৬০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের এমনভাবে সহায়তা করা, যাতে তারা সহজেই নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের (এফএমসিজি) সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেন। এই উদ্যোগের ফলে প্রায় ৪০% । ব্যবসায়ী নিয়মিতভাবে শপআপ অ্যাপ ব্যবহার করে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারবেন।
মাস্টারকার্ড সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ, সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট- এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুভাষিনী চন্দ্রন বলেন, “শক্তিশালী ও সুস্থ সমাজ গঠনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা বেশি আয় করতে পারবেন এবং আজকের ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে আরও টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও সফল হতে পারবেন।”
বাংলাদেশে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা (এমএসএমই)। দেশের মোট জিডিপির ২৫%-এ এই খাতটির অবদান রয়েছে, আর মোট কর্মসংস্থানের ৮৭% মানুষ কাজ করছেন এই খাতে। তবে এ ব্যবসাগুলো প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ঘাটতির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক কাঠামো ও চাকরির স্থায়িত্বের অভাবসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
যদিও নিবন্ধিত এমএসএমই-এর মাত্র ৭.২% নারী নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, যার বেশিরভাগই খুব ছোট আকারের; তবুও আরও অনেক নারী অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসা চালান। এসব ব্যবসা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; তারা পণ্য ও সেবা প্রদান করে এবং বিশেষ করে অন্যান্য নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে।
মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “বাংলাদেশে নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত ক্ষুদ্র। ব্যবসাগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করলে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং এর ইতিবাচক প্রভাব সমাজে ছড়িয়ে পড়ে-মাস্টারকার্ড সেটা ভালোভাবে উপলব্ধি করে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ব্যবসাগুলোর আকার ছোট হলেও তারা স্থানীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং অন্য নারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে। তাদের প্রয়োজন সঠিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আর্থিক সচেতনতা, যা তাদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা । করবে।”
গেটস ফাউন্ডেশনের উইমেন্স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার এমি পেনিংটন বলেন, “বাজারে প্রবেশ ও ডিজিটাল ব্যবহারে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য খুবই জরুরি। নারীরা যখন পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, তখন পুরো সমাজ ও অর্থনীতি উপকৃত হয়।”
মিল, ব্র্যান্ড ও প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে শপআপ পাড়ার ছোট দোকানগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে, যাতে তারা সহজেই নিয়মিত। ও বৈচিত্র্যময় খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ পায়। শপআপ-এর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্থানীয় মানুষের অর্ডার গ্রহণ ও পরিচালনা করতে পারেন এবং সাশ্রয়ী দামে পণ্য সরাসরি গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারেন।। বর্তমানে, দেশের লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবার এই ডিজিটালভাবে যুক্ত ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক থেকে উপকৃত হচ্ছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে ডিজিটাল দক্ষতা, ঘরে ঘরে বিক্রয় এবং আর্থিক সচেতনতা নিয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা শুধু ব্যবসা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করবেন না, বরং আয়, সঞ্চয় এবং পুনঃবিনিয়োগ পরিচালনার মতো অর্থনৈতিক সক্ষমতাও গড়ে তুলবেন, অনেকের জন্য যা জীবনে প্রথমবারের মতো হবে।