ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর প্রথম আসর
ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর প্রথম আসর
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৫, ২০২৫
নারীবাদী সবুজ জলবায়ু রূপান্তরে অনন্য অবদানের জন্য পুরস্কৃত হলেন দেশের তিন উদ্যোক্তা/সবুজ জলবায়ু রূপান্তরে নারীবাদী পদক্ষেপে ব্যতিক্রমী অবদানের স্বীকৃতি পেলেন দেশের তিন উদ্যোক্তা
ঢাকা- একশনএইড বাংলাদেশ; ১৫ মে ২০২৫: নারীবাদী সবুজ জলবায়ু রূপান্তরে বিশেষ অবদান রাখা ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তা এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি প্রদান ও উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো ‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’। এ বছর দুটি বিভাগে এই পুরস্কার পেয়েছেন দুই এসএমই উদ্যোক্তা এবং একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
এসএমই বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পিস (সিডিপি) এর আওতাধীন ট্রিপ্তি বুটিক হাউস এবং ইকোলেরি বাংলাদেশ, এবং কর্পোরেট বিভাগে আমান স্পিনিং মিলস লিমিটেড। এসময় এসএমই বিজয়ীকে অর্থ পুরস্কার, সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয় এবং কর্পোরেট বিজয়ীকে সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয়।
একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কূটনীতিবিদ, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
একশনএইড বাংলাদেশ-এর আয়োজনে এই বছরই যাত্রা শুরু করে ‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’। এই পুরস্কারের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২৭টি আবেদন জমা পড়ে। এরপর বিজ্ঞ বিচারমণ্ডলী কয়েক দফা যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। বিচারমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, সাপোর্ট-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সুরাইয়া আক্তার, ই-কুরিয়ার লিমিটেডের সিইও বিপ্লব ঘোষ রাহুল, একশনএইড ইন্টারন্যাশনালের আইএইচএআরটি-এর গ্লোবাল রেজিলিয়েন্স অ্যাডভাইজার তানজির হোসেন এবং একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কfবির।
এই বছর টেকসই উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা; পরিবেশ-বান্ধব অবকাঠামো; ন্যায্য রূপান্তর ও সবুজ কর্মসংস্থান এবং টেকসই ও জেন্ডার সংবেদনশীল উদ্ভাবন এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “বাংলাদেশে এই প্রথম একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যেখানে ন্যায্য ও নারীবাদী রুপান্তরে এসএমই ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানদের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই পুরস্কার একটি ন্যায্য, টেকসই অর্থনীতি ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মাইলফলক পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা অন্যদেরকেও সবুজ রূপান্তর আন্দোলনে যোগ দিতে এবং মানুষের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করতে চাই।”
নারীবাদী সবুজ রূপান্তরের গুরুত্ব এবং এই ক্ষেত্রে এসএমই উদ্যোক্তা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন বিচারমণ্ডলীর সদস্য নাসরিন ফাতেমা আউয়াল। তিনি বলেন, “এসএমই উদ্যোক্তারা এবং বেসরকারি খাত উদ্ভাবন ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে পরিবর্তন আনতে পারে, সেটিই আমাদের শক্তি ও অনুপ্রেরণা। এসএমই এবং বেসরকারি খাতের এই অগ্রদূতরা পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি ও জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিমালা মেনে চলার মাধ্যমে দেশের সবুজ রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শুরুতেই লোক সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরবর্তীতে জ্যাজ সঙ্গীতের মনোজ্ঞ পরিবেশনা ছিল। এএআইবিএস-এর চেয়ারপার্সন ইব্রাহিম খলিল আল-জায়াদের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে যা কিছু দেখছেন সবই পুনর্ব্যবহার্য পণ্য দ্বারা তৈরি। ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রেক্ষাপটে আমাদের সবুজ জলবায়ু রূপান্তরের দিকে ধাপিত হওয়ার সময় এসেছে। আমরা আশা করি, এই পুরস্কার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও পরিবেশ-বান্ধব এবং জেন্ডার সংবেদনশীল উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে উৎসাহিত করবে এবং একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হবে।”
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এএআইবিএস-এর এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার এবং একশনএইড অস্ট্রেলিয়া-এর বোর্ড চেয়ার বেলিন্ডা মরিসে ও বোর্ড ডিরেক্টর ক্রিস্টিনা স্টেফানোভা সহ প্রমূখ।