বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে এগারো ঘটিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাব ‘ইকোনোমিকস স্টাডি সেন্টার (ইএসসি)’-এর উদ্যোগে “প্রগতিতে সমতা ও নৈতিকতা: নৈতিক ধারণার দিক নির্ধারক” শীর্ষক একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাসভায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ গভার্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মুন্সী সোলায়মান এবং উইমেন ইন ডিজিটালের প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ এক্সিকিউটিভ আছিয়া নিলা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী।
আলোচনায় প্রথম বক্তা হিসেবে ড. রুমানা হক বলেন, নৈতিকতা আসলে আমার কাছে কিছু নীতি, কিছু মূল্যবোধ ইত্যাদির একটা সমষ্টি।” তিনি আরো উল্লেখ করেন মূল্যবোধ সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল। শেখা এবং জানার মাধ্যমে মূল্যবোধের ধারণা পরিবর্তিত হয়।
ড. মুন্সী সোলায়মান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অসমতা সম্পর্কে ভাবতে হলে আমাদের নিজেদের পরিচয় ভুলে গিয়ে সার্বজনীন ভাবে চিন্তা করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তুলেন ১ম শিল্প বিপ্লব থেকে ৪র্থ শিল্প পর্যন্ত আমরা অসমতার দিক দিয়ে কতটুকুই বা অগ্রসর হতে পেরেছি।
আছিয়া নিলা বলেন,” বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো যথাযথ ডাটা নীতি (data policy) নেই যা আমাকে খুবই উদ্বিগ্ন করে। ” তিনি উপযুক্ত ডাটা নীতি-এর গুরুত্ব এর উপর বিশেষ জোর দেন।
বক্তব্যের শেষে বক্তারা শিক্ষার্থীদের করা প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় তারা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অধ্যয়ন কেন্দ্র
ড. রাব্বানী প্রশ্ন তুলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক নৈতিক উদ্বেগ রয়েছে। আপনি এই ব্যাপারে, প্রযুক্তি নিয়ে কতটা আশাবাদী?” নিলা ব্যবহারকারীদের তাদের মতপ্রকাশ এবং প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সম্মতি বা কনসেন্টের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন, এক্ষেত্রে তিনি টুকলার (TrueCaller) কে উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করেন। ডক্টর রাব্বানী ডিজিটাল যুগে যৌথ নৈতিকতা, গোপনীয়তা এবং সম্মতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ডাঃ রুমানা হক লিঙ্গ বা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুষম প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা (supply chain management) উন্নত করতে, সার্বজনীন পেনশন এবং স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ডেটা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতাগুলো সমাধানের জন্য সরকারি পদক্ষেপের আহ্বান জানান। ড. মুন্সি স্বাস্থ্যসেবা ডেটা তত্বাবধান ও এ সম্পর্কিত নৈতিক উদ্বেগগুলিকে সমাধান করার মূল উপায় হিসেবে নৈতিক সদিচ্ছা ও সম্মতির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
শ্রোতাদের উদ্দেশে ড. হক প্রান্তিক অঞ্চলে সমতার ব্যবধান পূরাণ উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের পক্ষে কথা বলেন। ডঃ মুন্সি দক্ষতার সাথে সম্পদের বণ্টনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। অন্যদিকে, আছিয়া নিলা গ্রামীণ জনপদসমূহে তার সফ্টওয়্যার কোম্পানির প্রসারের অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী তুলে ধরেন। একই সময়, ড. হক ন্যায়সঙ্গত ও নৈতিক অগ্রগতি অর্জনে সুশাসনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে তার বক্তব্য শেষ করেন।
প্যানেল আলোচনাটিতে শ্রোতারা প্যানেলিস্টদের সাথে প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় সেশনের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের নৈতিকতা বিষয়ক জটিল সমস্যা অনুধাবন করতে সক্ষম হন। এখানে ৫ম বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সামিট অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, যা সমতা ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রাপথের দিকে সকলকে ধাবিত করে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের সহযোগী সদস্য নয়লী মুনিম ও ফাত্তাহিয়া শাফিহুন নাফিম।