বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ)-এর যৌথ আয়োজনে ৩ ডিসেম্বর “বাংলাদেশের চিংড়ি খাত পুনরুদ্ধারে নীতি সহায়তা রূপান্তর” শীর্ষক একটি নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি আয়ের খাতটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় জরুরি সংস্কার। | নিয়ে আলোচনায় নীতিনির্ধারক, শিল্প নেতা, রপ্তানিকারক, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগীরা একত্রিত হন।
পিআরআই-এর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন। মূল প্রবন্ধে উঠে এসেছে, উৎপাদনশীলতা, মূল্য সংযোজন এবং খাত-নির্দিষ্ট প্রণোদনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্প ভারত, ভিয়েতনাম । ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে আছে। প্রতিযোগী দেশগুলি যখন স্বল্প সুদের ঋণ, বীমা, বন্ডেড গুদাম ও নানা ধরনের ভর্তুকি দিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের সহায়তা ব্যবস্থা সীমিত রয়েছে, যেখানে ব্রুডস্টক-এর উপর উচ্চ শুল্ক এবং চাষি ও প্রক্রিয়াকারকদের জন্য সীমিত অর্থায়ন বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
চিংড়ি শিল্পের পুনরুদ্ধারে তিনি স্বল্পমেয়াদে নীতিগত পদক্ষেপের সুপারিশ করেন। এর মধ্য রয়েছে, রপ্তানি সহায়তা প্রাক-অর্থায়ন তহবিল (ইএফপিএফ)-এ চিংড়ি রপ্তানিকারকদের অন্তর্ভুক্ত করা, চিংড়িকে কৃষি খাতের আওতায় আনা এবং ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া, এসপিএফ ব্রুডস্টকের উপর ২৫% শুল্ক প্রত্যাহার করা, চাষ ব্যবস্থার উন্নতিতে সরকারি খনন সহায়তা প্রদান, কাঁচামাল আমদানি সহজীকরণ, এবং হ্যাচারিগুলিকে সম্পূর্ণরূপে এসপিএফ ফ্রাই ব্যবহারের জন্য । দুই বছরের রূপান্তর সময় দেওয়া। H
দীর্ঘমেয়াদী পুনরুদ্ধারের জন্য প্রস্তাব হিসেবে উঠে এসেছে, ২,৫০০ কোটি টাকার চিংড়ি অ্যাকুয়াকালচার ফান্ড, যা সহজ। শর্তে ঋণ দেবে; এবং ৫০০ কোটি টাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স ফ্যাসিলিটেশন ফান্ড, যা পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করবে। অন্যান্য অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে: প্রধান উপকূলীয় জেলাগুলিতে চিংড়িকে অগ্রাধিকারমূলক ফসল ঘোষণা করা, তৃতীয় পক্ষের গুণগত মান পরীক্ষার ল্যাবরেটরি স্থাপন, কৃষক ও কারখানা প্রযুক্তিবিদদের জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) সমর্থিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি এবং নতুনভাবে পলি পড়ে জমে ওঠা জমি জলজ চাষ সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহার করা।
তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ১.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বছরে কমপক্ষে ২২%। প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মন্তব্য করেন ড. খন্দকার।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।। তিনি ভর্তুকি ও প্রণোদনার মাধ্যমে চিংড়ি খাতের প্রতি বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং জানান যে শীঘ্রই এই খাতের বিদ্যুৎ বিলে ২০% ছাড় দেয়া হবে। তিনি এছাড়াও একটি বিশেষায়িত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠার আশাও প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেন, চিংড়ি খাতের “বৃহৎ। পুনর্গঠন ও শক্তিশালী মনিটরিং” প্রয়োজন এবং রোগ ব্যবস্থাপনা, জাত উন্নয়ন ও খাতের শাসন-ব্যবস্থায় সরকারের সক্রিয়। পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরু হয় চিংড়ি শিল্পের উপর করা একটি ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর বিএফএফইএ-র সভাপতি জনাব। মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রদান করেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে চিংড়ি রপ্তানি তিনগুণ বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেন।
সীমার্ক (বিডি) লিঃ-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব ইকবাল আহমেদ ওবিই আলোচনার সারাংশ উপস্থাপন। করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক মৎস্য শিল্প সমিতির সভাপতি জনাব মো. এনাম চৌধুরী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের। মহাপরিচালক জনাব মো. আবদুর রউফও বক্তব্য রাখেন।
বিএফএফইএ-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব মো. তারিকুল ইসলাম জহির এর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের। | সমাপ্তি হয়।
সংলাপটি পিআরআই-এর ফেসবুক পেজে লাইভ স্ট্রিম করা হয়।