• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

জানুয়ারিতেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারা, তবে গতি কিছুটা ধীর: পিএমআই সূচক ৫৩.৯

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
জানুয়ারিতেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারা, তবে গতি কিছুটা ধীর: পিএমআই সূচক ৫৩.৯

বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলোতে সম্প্রসারণের ধারা অব্যাহত থাকলেও জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (PMI) প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সামগ্রিক পিএমআই সূচক দাঁড়িয়েছে ৫৩.৯ পয়েন্টে, যা গত ডিসেম্বরের তুলনায় ০.৩ পয়েন্ট কম। উল্লেখ্য যে, সূচক ৫০-এর উপরে থাকা মানে সংশ্লিষ্ট খাতে প্রবৃদ্ধি বা সম্প্রসারণ বুঝায়।

টানা পঞ্চম মাসের মতো এই খাতে প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও এর হার আগের চেয়ে কিছুটা কম।

টানা ১৭ মাস ধরে এই খাত সম্প্রসারণের মধ্যে রয়েছে। তবে নতুন রপ্তানি এবং কর্মসংস্থান সূচকে কিছুটা সংকোচন দেখা গেছে।

গত মাসে সংকোচনের পর জানুয়ারি মাসে এই খাত আবার প্রবৃদ্ধিতে ফিরে এসেছে। তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার এখনও নিম্নমুখী।

টানা ১৬ মাস ধরে সম্প্রসারণের রেকর্ড গড়েছে এই খাত এবং জানুয়ারিতে এর প্রবৃদ্ধির গতি আরও জোরদার হয়েছে।

প্রতিবেদনে উত্তরদাতারা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি কিছুটা দুর্বল ও অনিশ্চিত। কাঁচামাল, শ্রম এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ব্যবসার খরচ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বিক্রি বাড়ছে না। এছাড়া আসন্ন নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করছেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নগদ অর্থের সংকটও ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন:

“সর্বশেষ পিএমআই সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সতর্কভাবে অর্ডার দেওয়ার কারণে উৎপাদন খাতের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে আশার কথা হলো, সব প্রধান খাতে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক একটি টেকসই প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—সবকটি খাতের উদ্যোক্তারাই আগামী দিনগুলোতে দ্রুততর সম্প্রসারণের আশা করছেন। বিশেষ করে মার্চ মাসের পর পরিস্থিতির আরও উন্নতির প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।