সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকারকে সাবধান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘চিন্ময়ের জামিনকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করি না। চিন্ময়ের ঘটনার শুরু থেকেই ভারতীয় আধিপত্যবাদ এ দেশের ওপর অন্যায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। চিন্ময়ের জামিনও কি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই দেওয়া হলো?’
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি সাবধান করে বলেন, ‘ইন্টেরিম সাবধান! আলিফের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের রাস্তা উন্মুক্ত করলে পরিণতি ভালো হবে না।’
উল্লেখ্য, বুধবার (৩০ এপিল) রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়
সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
একই দিনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। পরে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করা আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন চেম্বার জজ আদালত। একইসঙ্গে জামিন স্থগিতের আবেদন শুনানির জন্য আগামী রবিবার (৪ মে) দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন চেম্বার জজ আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীর বক্তব্য শুনবেন।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ওই সমাবেশে গত বছরের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক পরে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন।
রংপুরে একটি বড় সমাবেশ হয় ২২ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এর নেতৃত্বে। রাষ্ট্রদ্রোহের সেই মামলায় গত ২৫ নভেম্বর তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পরদিন জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে আদালতে হামলায় হত্যার শিকার হন আইনজীবী সাইফুল। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।