অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। আজ সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। দ্বিতীয় পর্বে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বাহিনীর সদস্য সংখ্যা নিম্নরূপ:
সেনাবাহিনী: ১ লক্ষ, নৌ-বাহিনী: ৫ হাজার, বিমান বাহিনী: ৩,৭৩০ জন।
পুলিশ: ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৪৩, আনসার ও ভিডিপি: ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন।
বিজিবি: ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ড: ৩,৫৮৫ এবং র্যাব: ৭,৭০০ জন।
সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩,৩৯০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ব্যাপক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে:
১. ড্রোন প্রযুক্তি: সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৪১৮টি ড্রোন সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে।
২. CCTV ও বডি ওর্ন ক্যামেরা: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে CCTV স্থাপন করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ সদস্যরা ২৫ হাজার Body Worn Camera ব্যবহার করবেন।
৩. নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬: এনটিএমসি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই অ্যাপের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করবে।
নির্বাচনকালীন সার্বক্ষণিক সেবার জন্য জরুরি পরিষেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠিত হবে, যেখানে প্রতিটি বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। দুর্গম এলাকায় নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হবে।
উপদেষ্টা জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী দমনে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ অভিযানে এ পর্যন্ত ১৯,৮৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন দুষ্কৃতিকারীদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮,৭৮০টিকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৬,৫৪৮টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সবশেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে দেশবাসী ও সাংবাদিকদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।