• ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

‘শিশুদের সাংস্কৃতিক মনন তৈরীতে ভুমিকা রাখছে- পঞ্চদশ জাতীয়শিশু- কিশোর ও যুব নাট্যোৎসব ২০২৪’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ৪, ২০২৪
‘শিশুদের সাংস্কৃতিক মনন তৈরীতে ভুমিকা রাখছে- পঞ্চদশ জাতীয়শিশু- কিশোর ও যুব নাট্যোৎসব ২০২৪’

আজ পর্দা নামলো ১২ দিনব্যাপী উৎসবের কোন এক রাজার রাজ্যে অন্যসব ঠিক ঠাক চলছিল। একদিন রাজার চোখে পড়লো প্রকৃতির মাঝে শিশুরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে হাসি, আনন্দ-উল্লাস নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। রাজা সেটা ভালোভাবে নিলেন না সেটাকে তিনি সময়ের অপচয় হিসাবে নিলেন। রাজা শিক্ষামন্ত্রীর প্ররোচনায় শিক্ষায় হাসি, গান, আনন্দ প্রকৃতি প্রেম সবকিছু রাজ্যে নিষিদ্ধ করলেন। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক কেউই রাজার এই আদেশ মন থেকে মেনে নিতে পারলেন না। তারা প্রকৃতির কোলে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায় তারা প্রাণখুলে হাসি আনন্দে থাকতে চায় আর শিখতে চায় । বাউলও তাদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে। তারা পাঠের সময় হাসি, আনন্দ গান নিয়ে বিদ্যাচর্চায় মনোনীবেশ করে। কিন্তু রাজার মন্ত্রী ও সেনাপতি রাজার আইন অমান্য করার দায়ে তাদের বন্দী করে রাজ দরবারে নিয়ে যায়।

এদিকে রাজপুত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে কবিরাজকে ডেকে পাঠানো হয়। কবিরাজ রোগের অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে বলেন রোগ তার মনে। রাজা আশাহত আর চিন্তামগ্ন হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীরা আসে রাজদরবারে তাদের শিক্ষাগুরু এবং বাউলকে মুক্ত করতে। তারা গানের মাধ্যমে রাজার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয় আর সেই সুরেই আকৃষ্ট হয়ে রাজপুত্র সুস্থ হয়ে উঠে এবং শিক্ষার্থীদের দলে যেতে পিতার অনুমতি প্রার্থনা করে। রাজা অনুমতি দেয় এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে শিক্ষক এবং বাউলকে মুক্ত করে দেয়। সাথে এই ঘোষণা প্রদান করেন এখন থেকে শিশুরা প্রকৃতির মাঝে হাসি, আনন্দ আর নাচ-গানের মাধ্যমেই শিক্ষা লাভ করবে। এভাবেই ‘প্রকৃতির পাঠ’ নাটকে ওঠে আসে সংস্কৃতি সচেতনতনতা, শিশুদের সুস্থতার গল্প।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর থেকে শুরু করে শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের মহেশ, একই সাথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের ভাষায় নাট্যরচনা থেকে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বাবা মায়ের সাথে শিশুদের মোবাইল আসক্তি, নানান শিক্ষা সচেতনতামুলক গল্পে অভিনয়ের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের বার্তা দিয়েছে শিশুরা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশন এর যৌথ আয়োজন- জাতীয় শিশু-কিশোর ও যুব নাট্যোৎসব ২০২৪ ১২ দিনব্যাপী চলা উৎসবের সমাপনী হলো আজ।
আজ ০৩ মার্চ ২০২৪ বিকাল সমাপনী দিনে একাডেমির ৩ টি মিলনায়তনে একযোগে নাটক শুরু হয় বিকাল ৫.০০ টা থেকে। ১০০টি নাট্য প্রযোজনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সমন্বয়ে এই উৎসব শুরু হয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি।
১০ হাজার শিশুর মিলনমেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নাট্যদলের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনায় জমে ওঠে ‘পঞ্চদশ জাতীয় শিশু- কিশোর ও যুবনাট্যোৎসব ২০২৪’।

সমাপনী দিনের আয়োজন
জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন:
আজ ০৩ মার্চ ২০২৪ বিকাল ৫:০০ টায় সুনীল বিশ্বাস রচনা ও নির্দেশনায় এবং প্রতীক লিটল থিয়েটার, হবিগঞ্জ এর পরিবেশনায় ‘নতুন কুড়িদের গল্প’ নাটক মঞ্চন্থ হয়। সন্ধ্যা ৬:০০ টায় পিপল্‌স লিট্‌ল থিয়েটার, ঢাকা এর পরিবেশনায় সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৮.০০ টায় এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সম্মানিত মহাপরিচালক শিশুবন্ধু জনাব লিয়াকত আলী লাকী।

এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল:
০৩ মার্চ ২০২৪ বিকাল ৫:০০ টায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূলগল্প অবলম্বনে ইনসুফ হাসান অর্ক এর নাট্যরুপ, কামরান হাসার এর নির্দেশনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি ফেনী এর পরিবেশনায় ‘তোতা কাহিনী’ নাটক মঞ্চন্থ হয় এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে। সন্ধ্যা ৬.০০ টায় মো: সোহেল রানা রচনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি রাঙ্গামাটি এর পরিবেশনায় ‘দূরন্ত রুপনা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। সন্ধ্যা ৭:০০ টায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর রচনায়, কামরুল হাসান রিপন নির্দেশনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি, যশোর পরিবেশনায় ‘ ডাকঘর’ নাটক মঞ্চস্থ হয়।
রাত ৮:০০ টায় স্বপন ভট্টাচার্য্য নাট্যরুপ, আনোয়ার হোসেন আলম এর নির্দেশনায় এবং ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার, কুমিল্লা এর পরিবেশনায় ‘যখন বৃত্তের বাইরে’ নাটক মঞ্চস্থ হয় ।

স্টুডিও থিয়েটার হল:
৩ মার্চ ২০২৪ সন্ধ্যা ৫.০০টায় ইফসুফ ইকবাল দীপু এর রচনায়, টিংকু রঞ্জণ মল্লিক নির্দেশনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, লক্ষীপুর এর পরিবেশনায় ‘প্রকৃতি পাঠ’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। সন্ধ্যা ৬:০০ টায় ফারহান কবীর সিফাত এর পরিকল্পনা ও নাট্যরুপ, শেখ আবদুস সবুর এর নির্দেশনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, গোপালগঞ্জ এর পরিবেশনায় ‘যান্ত্রিক যন্ত্রণা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। সন্ধ্যা ৭:০০ টায় খন্দকার ইমু কামাল এর নাট্যরুপ, জিহাদুল রহমান নির্দেশনায় এবং স্বদেশ নাট্যাঙ্গন, রাজবাড়ী এর পরিবেশনায় ‘মহেশ’ নাটক অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৮:০০ টায় বাংলা কলেজ যুব থিয়েটার এর পরিবেশনায় ‘জাগরণী’ নাটক মঞ্চস্থ হয়।

জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনায়:
বিকাল ৫. ০০টায় মো: মাইন উদ্দীন এর রচনা ও নির্দেশনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, খাগড়াছড়ি এর পরিবেশনায় ‘বৈখরী বদল (ত্রিপুরা ভাষা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। সন্ধ্যা ৬.০০ টায় সংগৃহীত রচনায়, বাপ্পী পোদ্দার এর নির্দেশনায় এবং কিশোর থিয়েটার, ফেনী এর পরিবেশনায় ‘টকশো’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। সন্ধ্যা ৭:০০ টায় দীপংকর দাস রতন নাট্যকার ও নির্দেশনায় এবং তির্ষক যশোর, যশোর এর পরিবেশনায় ‘উচ্চারণ বিভ্রাট’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। রাত ৮:০০ টায় জসীম উদ্দিন এর রচনায় এলাহী হোসেন জীবন এর নির্দেশনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নড়াইল এর পরিবেশনায় ‘নকশি কাঁথায় মাঠ’ নাটক মঞ্চস্থ হয়।
এছাড়াও বেলা ২.৩০ টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নাট্যদলগুলোকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী।

শিল্প সংস্কৃতিঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার অভিলক্ষ্যে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় শিল্প নিয়ে পৌঁছে যাবো আমারা উন্নতির শিখরে’ এই প্রতিপাদ্যে শিল্পের সকল শাখার সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় ও সাংস্কৃতিক প্রভাব সৃষ্টিকারী কর্মসূচিগুলো দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করছে বাংলাদশে শিল্পকলা একাডেমি। দেশের কাঙ্খিত সামগ্রিক উন্নয়নের টেকসই রূপায়নে সকল শ্রেণী, সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোর ও যুবকদের সম্পৃক্ত এবং অনুপ্রাণিত করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও পিপ্লস থিয়েটার এসোসিয়েশন যৌথভাবে দেশের শিশু-কিশোর ও যুবকদের ১০০টি নাট্য প্রযোজনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সমন্বয়ে ‘পঞ্চদশ জাতীয় শিশু-কিশোর ও যুব নাট্যোৎসব ২০২৪’ আয়োজন করেছে। এই উৎসবে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ৬৪টি ও পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশনের সদস্য সংগঠনের ৩৬টি প্রযোজনা মঞ্চস্থ হবে।
২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ০৩ মার্চ ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ০৪টি মিলনায়তনে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় এ উৎসব।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930