• ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

রায়েরবাজার বধ্যভূমি পরিদর্শন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী : আগামী ১৪ ডিসেম্বরের আগে রায়েরবাজার বধ্যভূমির নবনির্মিত স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রায়েরবাজার বধ্যভূমি পরিদর্শন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী : আগামী ১৪ ডিসেম্বরের আগে রায়েরবাজার বধ্যভূমির নবনির্মিত স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান এমপি আজ রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার স্মৃতিবিজড়িত এ ঐতিহাসিক স্থানের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি বধ্যভূমিতে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং এগুলোর যথাযথ ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবশিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার যতবারই নির্বাচিত হয়েছে, ততবারই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবের ইতিহাস। এই গৌরবকে ধারণ ও লালন করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে যাঁরা শায়িত আছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ যেন যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ স্মরণ করে, সেই লক্ষ্যেই এ স্থাপনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানকার স্থাপনাগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতেই আমি সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছি। আশা করছি, আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগেই এখানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত লাইব্রেরিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আর্ট গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ ও বীরত্বগাথা তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব। আমরা এই গৌরবকে ধারণ করি, লালন করি। একই সঙ্গে আগামী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করে রেখে যেতে চাই। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যও হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গৌরবগাথা তুলে ধরা।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক ও অফিস কক্ষ, জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার, ৪০ কেভিএ জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা, ইন্টারকম, স্টেজ লাইটিং, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও অফিস কক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আগামী ২৯ অক্টোবর রোজ বৃহস্পতিবার প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা, স্থাপনাগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত কল্পে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোঃ শাহজাহান মিয়া, যুগ্ম-সচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো: জেহাদ উদ্দিন, যুগ্ম-সচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ সামছুল হক ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31