আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা।শুভ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের শুভ জন্ম। বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায় দিনটিকে বুদ্ধপূর্ণিমা হিসেবে পালন করে।
বুদ্ধের এই অমিয় বাণীর প্রভাবে সকলের রোগ-ভয়, হিংসা গ্লানি দূরবিত হয়ে মঙ্গল ও কল্যাণ সাধিত হোক।
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ মৈত্রীময় শুভেচ্ছা।আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই সময়কাল কে বৌদ্ধ পরিভাষায় বর্ষা ঋতু বলা হয়। বুদ্ধ যুগে চার মাসে এক ঋতু গণনা করা হত। এই বর্ষা ঋতু প্রবারণা উদযাপনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। আশ্বিনী পূর্ণিমার অপর নাম প্রবারণা পূর্ণিমা। প্রবারণা মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের একটি বিনয়-কর্মের নাম।
প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে উৎসবমূখর হয়ে উঠে বিহারগুলো।বিহারে বিহারে বর্ণিল আলোকসজ্জার আলোয় বিহারগুলো হয়ে উঠে দৃষ্টিনন্দন। ভোরে বুদ্ধপূজা, সকালে উপোসথ শীল গ্রহণ, বিকালে সদ্ধর্মদেশনা শ্রবণ, সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, সন্ধ্যার আকাশে
আকাশপ্রদীপ হিসেবে ফানুস উত্তোলন এবং দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
বুদ্ধের সময় শত শত এমনকি হাজার হাজার ভিক্ষুসংঘ একই স্থানে একসঙ্গে অবস্থান করে ধর্ম ও বিনয় শিক্ষা করতেন। একত্রে অবস্থানকালীন ভুল-ত্রুটি হতে পারে এই চেতনা থেকে প্রবারণা উদযাপন করেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। প্রবারণা মানে ভুল-ত্রুটির নির্দেশ। আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ ও ধ্যানশিক্ষা সমাপ্তি। সকল প্রকার ভেদাভেদ, গ্লানি ভুলে গিয়ে দোষমুক্ত হওয়ার জন্য ভিক্ষুসংঘ পবিত্র ভিক্ষুসীমা ঘরে সম্মিলিত হয়ে একে অপরের নিকট ভুল স্বীকার করেন। ভুল-ত্রুটি দৃঢ়তার সঙ্গে স্বীকার করে সংশোধনের প্রচেষ্টায় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই প্রবারণার শিক্ষা।
আরেক অর্থে প্রবারণার অর্থ হল, বরণ আর বারণ করা। অর্থাৎ সকল প্রকার পাপকর্ম, হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ, রিপুর তাড়না বর্জন বা বারণ করে পুুণ্যকর্ম সম্পাদন বা যা সত্য, সুন্দর, ন্যায় তা বরণ করার শিক্ষা প্রবারণা দিয়ে থাকে।
প্রবারণা মূলত, আত্মশুদ্ধির আহবান জানায় এবং এটা প্রধানত ভিক্ষুসংঘ কেন্দ্রিক এবং দ্বিতীয়ত, বৌদ্ধ নর/নারী যারা তিনমাস ব্যাপী উপোসথ শীল পালন করেছেন তারা এই দিনে তিনমাস ব্যাপী একটানা চলা বর্ষব্রতের সমাপনী উপোসথ শীল পালন করে থাকেন।