প্রশাসক, বিজিএপিএমইএ এর গ্যাপেক্সপো ২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্য
রাজীব কান্তি দে/ঢাকা
সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা শীতের সুন্দর সকালে জানুয়ারি,বৃহস্পতিবার,২০২৪ সকাল ১১ ঘটিকায় আইসিসিবি, হল-০৪,নবরাত্রি ১৩ তম গ্যাপেক্সপো ১১ তম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব), জনাব আ.হ.ম. এহসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিজিএমইএ এর সুযোগ্য সভাপতি জনাব মো. ফারুক হাসান, বিকেএমইএ এর নির্বাহী সভাপতি জনাব মোহাম্মদ হাতেম। তাছাড়া উপস্থিত আছেন অত্র মেলার কো-অর্গানাইজার এএসকে ট্রেড এন্ড এক্সিবিশন প্রা.লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব টিপু সুলতান ভূঁইয়া, বিজিএপিএমইএ এর নেতৃবৃন্দ, এসোসিয়েশনের সম্মানীত সদস্যবৃন্দ, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভাই ও বোনেরা এবং উপস্থিত সুধী মন্ডলী আস্সালামুআলাইকুম।
দেশীয় পণ্যের বাজার বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারের রপ্তানিনীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) আজ থেকে ১৩ বছর পূর্বে গ্যাপেক্সপো মেলার আয়োজন শুরু করেছিল। এ মেলায় গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং এর পাশাপাশি গার্মেন্টেক একত্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিজিএপিএমইএ’র ২০০০ এর মতো প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য যেমন প্রদর্শণ করার সুযোগ পাচ্ছে তেমনি বিজিএমইএ এর ৪০০০ এর অধিক সদস্য, বিকেএমইএ’এর ১০০০ এর অধিক সদস্যসহ সমপ্রকৃতির অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শণ এবং পণ্য উৎপাদনের জন্য আধুনিক মেশিন অনুসন্ধানের সুযোগ পাচ্ছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও হল ও তাঁবু মিলে একত্রে মোট ১০টি হলে মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ২৪০ হতে ২৫০ জন এক্সিবিটর ৬৫০ হতে ৬৬০টি স্টলে মেলায় অংশগ্রহণ করবেন। ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, ইতালির মত দেশসহ মোট ১৮টি দেশের প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশগ্রহণ করছে।
দেশের ব্যবসা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগে মূখ্য ভূমিকা পালনকারী ইপিবি’র ভাইস-চেয়ারম্যান মহোদয়, বিজিএমইএ এর সভাপতি মহোদয় এবং বিকেএমইএ এর নির্বাহী সভাপতি মহোদয় আজকের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন, এটি আমাদের বিশেষ পাওয়া এবং পরম সৌভাগ্য। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি তাদেরকে অবহিত করতে চাই যে, সরকারের যুগোপযোগী রপ্তানি নীতি আদেশে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ রপ্তানিকারকদের জন্য সমসুযোগ প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ কারখানা প্রাঙ্গন বন্ডেড এরিয়া হিসেবে সুযোগ না পাওয়া, কন্টিনিউয়াস বন্ডের সুবিধা না পাওয়া, হ্রাসকৃত হারে কর্পোরেট ট্যাক্সের সুবিধা না পাওয়াসহ আরো অনেক বিষয় আছে যেগুলো অর্থমন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পর্কিত। রপ্তানির সাথে সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ের প্রতি মাননীয় প্রধান অতিথি এর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং সেক্টরটি একটি প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক খাত। পোশাক শিল্পের সকল প্রতিষ্ঠানের এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্যের চাহিদার শতকরা ৯৫% আমরা পূরণ করছে। ফলে ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের লীড টাইম কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্যে ৪০% এর বেশি ভ্যালু এডিশন থাকলে রপ্তানি প্রণোদনা দেয়া হয়ে থাকে। গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং সেক্টরের উৎপাদিত পণ্যের ভ্যালু এডিশন শতকরা ৪০ এর বেশি। যদিও সাম্প্রতিক বাজেটে এবং অর্থ আইনে এ সেক্টরকে প্রণোদনা প্রদানের বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করা হলেও বাস্তবিকপক্ষে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং সেক্টর সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকার কারণে এ সেক্টর প্রত্যক্ষ রপ্তানিকারকদের ন্যায় রপ্তানি প্রণোদনা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।
তাই আমি প্রচ্ছন্ন রপ্তানির নির্ভরযোগ্য তথ্য রাখার এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের রপ্তানি প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।
কোন একটি বিশেষ পণ্যের পরিচিতি ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর কোন একটি পণ্যকে বর্ষ পণ্য ঘোষনা করছে। World Packaging Organization এর তথ্য মতে বিশ্বে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্যাকেজিং পণ্যের চাহিদা রয়েছে। প্রচুর সম্ভাবনা থাকা স্বত্বেও বিশ্বে প্যাকেজিং শিল্পে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ১%। সম্ভাবনাময় এ খাতের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০২৫ সালে প্যাকেজিং পণ্য বা এ সেক্টরের অন্য কোন পণ্যকে বর্ষ পণ্য হিসেবে ঘোষনার জন্য অনুরোধ করছি।
চারদিন ব্যাপি এ মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় টেক্সটাইল এবং তৈরি পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের অসাধারণ এক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রদর্শনীগুলোতে পোশাক তৈরির সর্বাধুনিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিসমূহ তুলে ধরা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ উৎপাদন, মান, কমপ্লায়েন্স এবং মূল্য সংযোজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। এছাড়াও ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে এক সেতু বন্ধনের সৃষ্টি করবে। এ শিল্প মেলা ক্রেতা এবং বিক্রেতার জন্য কার্যকর একটি মিলন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।
পরিশেষে আমি আন্তর্জাতিক এ শিল্প মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শত ব্যস্ততার মাঝেও জাতীয় রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান অনুঘটক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এর কর্ণধারগণ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকায় আমি এসোসিয়েশন ও আমার নিজের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা জানি” প্রচারেই প্রসার” তাই আমাদের এ অনুষ্ঠানকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারের জন্য যাঁরা কাজ করছেন এবং উপস্থিত আছেন আমি সে সব প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার ভাই ও বোনদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সর্বোপরি বিজিএপিএমইএ এর নেতৃবৃন্দ এবং এসোসিয়েশনের অন্যান্য সকল সম্মানিত সদস্য, কো-অর্গানাইজার এএসকে ট্রেড এন্ড এক্সিবিশন প্রা. লি. এর কর্ণধারণণসহ বিজিএপিএমইএ এর সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাঁদের সহযোগিতা ও কর্মতৎপরতার কারণে আজকের এ অনুষ্ঠান ও মেলা সফল হচ্ছে তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
আপনারা ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।