আগামী ২২ মে থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’র ৩৫তম আসর। ১৯৯২ সালে বিদেশের মাটিতে শুরু হওয়া বাংলা ভাষার বই ঘিরে এই মেলা এ বছর ৩৫ বছরের গৌরবময় মাইলফলক স্পর্শ করছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার আয়োজক সংস্থা মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এই ঘোষণা প্রদান করে।
এবারের মেলার মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘যত বই, তত প্রাণ’। গত কয়েক বছরের মতো এবারও নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে এই আন্তর্জাতিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৯২ সালে বিশ্বজিত সাহার একক উদ্যোগে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন ও ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের সূচনা হয়।
এই মেলার একটি স্বতন্ত্র ঐতিহ্য হলো, প্রতি বছর বাংলা ভাষার একজন বিশিষ্ট লেখক মেলার উদ্বোধন করেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা মন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও উদ্বোধন করেন লেখকগণই।
ইতিপূর্বে হুমায়ূন আহমেদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, নির্মলেন্দু গুণ, সেলিনা হোসেন এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে সাদাত হোসাইনের মতো বরেণ্য লেখকরা এই মেলা উদ্বোধন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ৩৫তম মেলার আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “৩৫ বছরের এই মাইলফলকে আমাদের লক্ষ্য বাংলা ভাষাকে আমেরিকার মূলধারার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা”। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা: জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, এই মেলা কেবল বই কেনাবেচার মাধ্যম নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের এক অনন্য মেলবন্ধন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডা: ফারুক আজম। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শামীম রেজা, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, কথা সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন, আইয়ুব ভূঁইয়া সহ দেশি-বিদেশি বরেণ্য লেখক ও প্রকাশকগণ।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা প্রকাশকদের অংশগ্রহণে এই বইমেলা আজ বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চর্চাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লেখক, কবি ও পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনের কলেবর প্রতি বছর বৃদ্ধি করেছে।