“ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ খসড়া আইন”-এর বিতর্কিত কতিপয় ধারা বাতিলের দাবিতে আটাব সাধারণ সদস্যদের প্রতিবাদ সমাবেশ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
“ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ খসড়া আইন”-এর বিতর্কিত কতিপয় ধারা বাতিলের দাবিতে আটাব সাধারণ সদস্যদের প্রতিবাদ সমাবেশ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০২৫
বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতের স্বার্থবিরোধী এবং ব্যবসাবান্ধব নয়—এমন কয়েকটি ধারা বাতিলের দাবিতে আজ রাজধানীর জোনাকি কনভেনশন হলে আটাব সাধারণ সদস্যদের উদ্যোগে এক প্রতিবা সমাবেশ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক ট্রাভেল এজেন্সি মালিক অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে ATAB সাধারণ সদস্যদের পক্ষে জনাব আবদুস সালাম আরেফ “ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ খসড়া আইন”-এর ওপর তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন:
“এই খসড়া আইনে কিছু ধারা রয়েছে যা দেশের ট্রাভেল ট্রেডের জন্য চরম ক্ষতিকর। বিশেষ করে অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লক্ষ টাকা জামানতের প্রস্তাব, এক এজেন্সির সাথে অন্য এজেন্সির ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা, এবং জেল-জরিমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব—সবকিছুই অযৌক্তিক, অবাস্তব ও ব্যবসাবান্ধব নয়।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“বাংলাদেশের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাত ইতিমধ্যেই কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এমন আইন প্রণয়ন হলে লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। সরকারের উচিত হবে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নীতি প্রণয়ন করা।”
সমাবেশে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়—
১/ অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সিদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা জামানতের প্রস্তাব বাতিল
—এটি ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেবে।
—কারণ এটি যাত্রী সেবা ব্যহত করবে ও ছোট এজেন্সিদের কর্মহীন করবে ও পুরো ট্রেডকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
৩/অতিরিক্ত জেল ও জরিমানা বৃদ্ধির ধারা বাতিল করে পূর্বের বিধান বহাল রাখা
—অপ্রয়োজনে হয়রানি ও প্রশাসনিক চাপ বৃদ্ধি করবে।
সমাবেশে আটাব সদ্য সাবেক মহাসচিব মিসেস আফসিয়া জান্নাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমরা অতীতে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ট্রাভেল ট্রেডের উপর আরোপিত যেকোনো নেগেটিভ বিষয় দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করেছি। আজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে যখন ট্রেডের এমন সংকটময় অবস্থা, তখন সরকারের সঙ্গে বার্গেনিং করার মতো শক্তিশালী ATAB কমিটি অনুপস্থিত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন:
“ATAB-এর কমিটি বাতিল করে সংগঠনকে দুর্বল করার একটি সিন্ডিকেট-চালিত নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এটি পুরো ট্রাভেল শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় গড়ে ওঠা বিভিন্ন সিন্ডিকেট বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে, তবে এসব আইন যেন সাধারণ ব্যবসায়ির ক্ষতির কারণ না হয়।
অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্টভাবে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন—নির্বাচিত ATAB কমিটি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বাতিল না করা হলে আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না, এবং ব্যবসাবান্ধব নয়—এমন ধারা আইনে যুক্ত হত না। সকলে বিতর্কিত এই ধারাগুলো প্রত্যাহারের দাবী জানান।
বক্তারা সবাই একযোগে খসড়া আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিল করে ট্রাভেল ট্রেডকে রক্ষার দাবি জানান।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে সংগৃহীত স্বাক্ষরসমূহ আগামীকাল সোমবার মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপির সাথে সংযুক্ত করে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।