• ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

জবিতে মন্দির নির্মাণের দাবিতে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি: প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীদের স্বউদ্যোগে ভিত্তিপূজা ও উদ্বোধন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
জবিতে মন্দির নির্মাণের দাবিতে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি: প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীদের স্বউদ্যোগে ভিত্তিপূজা ও উদ্বোধন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত স্থানে ‘শৌচাগার’ নির্মাণের প্রতিবাদ এবং দ্রুত মন্দির বাস্তবায়নের দাবিতে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় প্রশাসনের কোনো সাড়া না পেয়ে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দিরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে কয়েকশ শিক্ষার্থী অবস্থান গ্রহণ করেন। ‘মন্দির আমার অধিকার, রুখে দেবে সাধ্য কার’, ‘প্রশাসন লজ্জা লজ্জা’—এমন সব স্লোগানে দিনভর উত্তাল থাকে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২,৭০০ সনাতনী শিক্ষার্থীর জন্য কোনো স্থায়ী উপাসনালয় নেই। বারবার স্মারকলিপি দেওয়ার পরেও প্রশাসন জায়গা সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দাবিটি এড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত জায়গায় মন্দির না বানিয়ে উল্টো পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, “আমরা বারবার জায়গা দেখিয়ে দেওয়ার পরও সেখানে শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।” ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার এই ঘটনাকে ‘ধর্মীয় অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করেন। জবি সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি সুমন কুমার দাস ঘোষণা দেন যে, প্রশাসন অনুমতি না দিলেও তারা তাদের অধিকার আদায়ে মন্দির স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করবেন।

জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ‘অসংবেদনশীল’ ও ‘বিমাতাসুলভ আচরণ’ বলে আখ্যা দেন। পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন জানান, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ঝালিয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে, সারাদিন কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি ও জিএসসহ অধিকাংশ প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসনের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না আসায় মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং সেখানেই রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও জকসু জিএস আব্দুল আলীম আরিফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও শৌচাগার নির্মাণের কাজ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই স্থান ত্যাগ করবেন না।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930