শনিবার,২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রঙানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর উদ্যোগে বিজিএমইএ ক্যারিয়ার সামিট ও ফেস্ট ২০২৩ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে।
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এর সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এই ইভেন্টটি ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিজিএমইএ এর সভাপতি ফারুক হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যারিয়ার সামিটের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস.এম. মাহফুজুর রহমান, বিজিএমইএ এর পরিচালক আসিফ আশরাফ, জি-স্টার রো (G-Star RAW) এর রিজিওনাল অপারেশনস ম্যানেজার শফিউর রহমান এবং ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস এর সভাপতি মোঃ শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম ও পরিচালক নীলা হোসনে আরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিজিএমইএ এর পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিব।
অনুষ্ঠানে পোশাক শিল্প নেতৃবৃন্দ উপস্থিত গ্র্যাজুয়েটদের সাথে শিল্প বিষয়ে তাদের উপলব্ধ করা জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
বিজিএমইএ ক্যারিয়ার সামিট অ্যান্ড ফেস্ট এ ১০০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক কোম্পানি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সটাইলস এবং শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত গ্র্যাজুয়েট এবং শিক্ষার্থীরা ভেন্যুতে অংশগ্রহনকারী গার্মেন্টস কোম্পানিগুলোর দেয়া সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে ইভেন্টটি পরিদর্শন করেন।
সম্মেলনে কয়েকটি সেশনও ছিলো, যেখানে শিল্প বিশেষজ্ঞরা পোশাক শিল্পে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা এবং গ্র্যাজুয়েটরা কিভাবে এই খাতে তাদের
ক্যারিয়ার গড়তে পারে, সে সম্পর্কে মূল্যবান দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শও দেন।
ক্যারিয়ার সামিট শুধুমাত্র নেটওয়ার্কিং এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ অন্বেষনের জন্য একটি প্লাটফর্ম প্রদান করছে, তা নয়, বরং চাকুরি প্রত্যাশীদেও জন্য সরাসরি বিজিএমইএ দপ্তরে তাদের সিভি জমা দেয়ার সুযোগও করে দিচ্ছে। বিজিএমইএ এই সিভিগুলো সম্ভাব্য নিয়োগের জন্য সদস্য কারখানাগুলোর সাথে শেয়ার করবে, যা চাকুরিপ্রার্থীদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের সাথে সংযোগ করার জন্য একটি সরাসরি উপায় প্রদান করবে।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান তার বক্তব্যে ক্যারিয়ার সামিটের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে গ্র্যাজুয়েটদের উৎসাহিত করেন।
তিনি জ্ঞানার্জন, নেটওয়ার্কিং এবং ভবিষ্যত কল্পনা করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন এগুলো শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ে উপকার সাধন করে না বরং সমগ্র পোশাকখাতের প্রবৃদ্ধি এবং সাসটেইনেবিলিটি’তে অবদান রাখে।
এর প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল গতি প্রকৃতি তুলে ধরে ফারুক হাসান শিক্ষার্থীদেরকে বৈশ্বিক বাজারের নিত্য নতুন চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করার জন্য আহবান জানান।
তিনি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গ্রাজুয়েটদের নতুন সুযোগ গ্রহণ করার, সম্ভাবনা উন্মোচন করার এবং ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাতের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার উপর জোর দেন।
বিজিএমইএ ক্যারিয়ার সামিট অ্যান্ড ফেস্ট ২০২৩ এর লক্ষ্য হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটসহ মেধাবী ব্যক্তিদের জন্য পোশাক শিল্পের শীর্ষ কোম্পানীগুলোর সাথে যোগাযোগ সহজতর করে দেয়া।
১০০ টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় পোশাক কোম্পানির সক্রিয় অংশগ্রহণসহ এই সামিট পোশাকখাতে সফল ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য নেটওয়ার্কিং এবং ক্যারিয়ার অন্বেষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লান্টফর্ম হিসাবে কাজ করছে।