ঢাকায় ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬’ এর জমকালো সূচনা: দুর্দান্ত সাড়া ফেলেছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ‘লে মেরিট এক্সপোর্ট লিমিটেড’
ঢাকায় ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬’ এর জমকালো সূচনা: দুর্দান্ত সাড়া ফেলেছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ‘লে মেরিট এক্সপোর্ট লিমিটেড’
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ১৯, ২০২৬
রাজীব দে:
আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘১৬ তম ইনটেক্স বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় প্রথম দিনেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ভারতের স্বনামধন্য টেক্সটাইল ব্র্যান্ড ‘লে মেরিট এক্সপোর্ট লিমিটেড’। আইসিসিবির ২ নম্বর হলে অবস্থিত লে মেরিটের চমৎকার স্টলটিতে প্রথম দিন থেকেই টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ী ও সোর্সিং পেশাদারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এবারের প্রদর্শনীতে চারটি বিশেষায়িত হল জুড়ে ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং, উজবেকিস্তান এবং স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৩০০টিরও বেশি বুথ স্থান পেয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল উৎপাদনকারী, সোর্সিং পেশাদার, ক্রেতা, বিভিন্ন ব্র্যান্ড, নীতিনির্ধারক এবং বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, উদ্ভাবন এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছে।
২০২৩ সালে ভারতে যাত্রা শুরু করা ‘লে মেরিট এক্সপোর্ট লিমিটেড’ বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ‘থ্রি-স্টার এক্সপোর্ট হাউজ’। গোটা ভারতে ইয়ার্ন ও গ্রেইজ ফেব্রিকসের উৎপাদনকারী ও রপ্তানীকারী হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই গ্রুপটি বর্তমানে বাংলাদেশ, তুরস্ক, মিশর, চায়না, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে তাদের অফিস পরিচালনা করছে। বিশ্বের ২৭টি দেশে লে-মেরিটের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানী করা হয়। বিশেষ করে কটন ইয়ার্ন উৎপাদনে লে-মেরিট বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
ভারতের নাগপুরে কোম্পানিটির একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পিনিং ইউনিট রয়েছে, যেখানে ২৭,০০০ স্পিন্ডেলস, ২২ টিএফও, স্ল্যাব মেশিন ও কমপ্যাক মেশিনসহ অত্যাধুনিক সব মেশিনারী ব্যবহার করে অত্যন্ত পরম যত্নে ৩০ মিমি লম্বা কটন উৎপাদন করা হয়। ভারত থেকে উন্নতমানের র-উল (কাঁচামাল) সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করছে কোম্পানিটি। বর্তমানে ১০০০ জনেরও বেশি দক্ষ কর্মী এই সংস্থায় কর্মরত রয়েছেন।
ব্যবসায়িক সততা ও সুনামের স্বীকৃতিস্বরূপ লে-মেরিট গত ২ বছর ধরে ভারতের জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) তালিকাভুক্ত সদস্য। এছাড়া ভারতের ন্যাশনাল ট্যাক্স অথোরিটি থেকে ‘সর্বোচ্চ কর-প্রদানকারী’বহিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে কোম্পানিটি। সর্বোচ্চ রপ্তানীকারক হিসেবে ভারতের FIEO গোল্ড ট্রফিসহ অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার রয়েছে তাদের ঝুলিতে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং পরিবেশ সুরক্ষায় লে-মেরিটের রয়েছে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সাস্টেইনএবল সনদ। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— গ্লোবাল রিসাইকেলড স্টান্ডার্ড (GRS), সেডেক্স (Sedex), গট (GOTS), ইউরোপীয়ান ফ্লাক্স, ওর্গানিক NOP, আর-ডব্লিউ-এস (RWS) এবং ওইকো টেক্স (Oeko-Tex)। এছাড়া কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (CSR) বা সামাজিক চ্যারিটি কার্যক্রমেও দারুণ অগ্রগামী এই গ্রুপটি। বর্তমানে কোম্পানিটি তাদের ‘সাসটেইনএবল ভিশন’ এবং ‘লাইফ ম্যানেজমেন্ট ভিশন’-এর মতো দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
কোম্পানিটির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে দক্ষ নেতৃত্ব। এর ফাউন্ডার অভিষেক লাঠ বর্তমানে ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এবং সিএফও হিসেবে দীর্ঘ ২২ বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা দিয়ে লে-মেরিটকে বহুগুণে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি, এক্সপোর্ট ইউনিটের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ১৯ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নমিতা নায়ার।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল বাজারেও লে-মেরিটের রয়েছে শক্তিশালী অবস্থান। গত ১৭ বছর ধরে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৪০টিরও বেশি বেস্ট গ্রুপ অফ কোম্পানির বিশ্বস্ত পার্টনার ও সাপ্লায়ার হিসেবে কাজ করছে তারা। যার মধ্যে ডিবিএল গ্রুপ (DBL Group), তাসনিয়া এপারেলস, ইপিলিয়ন গ্রুপ (Epillyon Group) এবং কম্ফি গ্রুপ অন্যতম।
মেলা চলাকালীন আইসিসিবির ২ নম্বর হলে লে-মেরিটের স্টলে উপস্থিত থেকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছেন কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার মোঃ পলিরাজ নয়ন (Md Polyraz Nayan),মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ আমরা কোথায় ভাই নাবহান ইসলাম।
উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকার আইসিসিবি-র ২ নম্বর হলে অনুষ্ঠিত ১৬ তম ইনটেক্স বাংলাদেশ এক্সপোতেও বড় প্যাভিলিয়ন নিয়ে সফলভাবে অংশ নিয়েছিল লে-মেরিট গ্রুপ।
লে-মেরিট এক্সপোর্ট লিমিটেড এবং তাদের পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন তাদের অফিসিয়ালওয়েবসাইটে:www.lemeriteexports.com।