বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপন
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপন
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯, ২০২৬
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপন ঐক্য, সৃজনশীলতা ও অন্তুর্ভূক্তির বার্তা ছড়িয়ে শেষ হলো ২ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা
আজ ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ দুই দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে সমাপনী দিনে একই মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করে ৩ শতাধিক শিল্পী।
আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কানিজ মওলা বলেন, “অনুর্ভূক্তিমূলক অংশগ্রহণ সবার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সরকার-রাষ্ট্র যে প্রোগ্রামগুলো আয়োজন করে যদি সকলে এর সাথে অন্তর্ভূক্ত না হন, অংশগ্রহণ না করেন- তাহলে সেটা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু আমরা চাই একটা জাগরণ, সবাই জানবে, অংশগ্রহণ করবে। নৈতিক শিক্ষার দিক থেকে আমাদের শিশুদের মানসিক গঠন উন্নত করতে হলেও সংস্কৃতির ভূমিকা কিংবা সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।”
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, “শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, জ্ঞানকেন্দ্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্কৃতি চর্চা জরুরি আগামী দিনে আমাদের কর্মকান্ড আরো প্রসারিত করার জন্য আমরা জেলা উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা ছড়িয়ে দেবো। আমরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আমাদের সঙ্গে যুক্ত করব। সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করে আমরা পর্যটনের দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করবো যাতে আমরা আর্থিকভাবেও লাভবান হই।”
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সম্মানিত সচিব জনাব মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন-“শুধু ঢাকা নয় সারাদেশব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। আমাদের শিশু কিশোররা প্রত্যেকেই কোন না কোন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশা করি আমাদের যে সাংস্কৃতিক ক্ষতি হয়েছে তা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো এবং দেশব্যাপী একটা জাগরণ তৈরি হবে। ”
জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সমাপনী দিনে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে ২৩টি দল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন রূহী আফসানা দিপ্তী। সাজু আহমেদ এর পরিচালনায় কথক নৃত্য সম্প্রদায় এবং সামিনা হোসেন এর পরিচালনায় নৃত্যদল ভাবনা তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করে। এরপর আনন্দিতা খান এর পরিচালনায় নৃত্যদল অংশী এবং মনিরা পারভীন এর পরিচালনায় নৃত্যদল নৃত্যায়ন পরিবেশনা উপস্থাপন করে। ফারহানা চৌধুরী’র পরিচালনায় বাংলাদেশ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর নৃত্যশিল্পী এবং স্বপ্নচূড়া কালচারাল একাডেমি আফরিনা আফরোজ চৌধুরী’র পরিচালনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশিত হয়। সেলিনা হক এর পরিচালনায় নৃত্যদল নৃত্যসুর এবং প্রিয়াংকা সাহা’র পরিচালনায় আরাধনা নৃত্যদল তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করে। সুলতানা হায়দার এর পরিচালনায় নৃত্যদল সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন এবং আরোহী ইসলাম এর পরিচালনায় নৃত্যদল আট্রিস্ট্রি নৃত্য পরিবেশন করে।
পরিবেশনার এ পর্যায়ে মো: মাসুম হুসাইন এর পরিচালনায় নৃত্যদল পরম্পরা পরিবেশন করে ‘মাস্ত কালান্দার’ এবং ফিফা চাকমা’র পরিচালনায় নৃত্যদল তপস্যা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ‘কাছারক নৃত্য’ পরিবেশন করে। এরপর ‘মিরা ভজন’ নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যদল আঙ্গিকাম, নৃত্য পরিচালনা করেছেন দীপা সরকার এবং নৃত্য পরিচালক এম আর ওয়াসেক এর পরিচালনায় নৃত্যদল নন্দন কলাকেন্দ্র নৃত্য পরিবেশন করে ‘আল্লাহ মেঘ দে’। নৃত্যগ্রাম দল পরিবেশন করে ‘আমার ঘরখানায়’, পরিচালনায় ছিলেন মানস তালুকদার। নৃত্য পরিবেশন করে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, পরিচালনায় অনিক বোস। সালমা বেগম মুন্নি’র পরিচালনায় নৃত্যাক্ষ নৃত্যদল এবং আইরিন পারভীন এর পরিচালনায় নাচঘর সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে। স্ব-ভূমি সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিবেশনায় ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’, পরিচালনায় ছিলন এস এম সাজেদুল হাসান সাজু। নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র, তামান্না রহমান এর পরিচালনায় উপস্থাপন করে ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’। অমিত চৌধুরী’র পরিচালনায় কায়াশ্রম পরিবেশন করে ‘ফুল ছড়ানোর পালা’। সবশেষে পর্দা নামে অ্যালিফিয়া ডান্স এটেলিয়ার এর ‘ইন্সট্রুমেন্টাল’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন মোফাসসল আলিফ।
২ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অফিসিয়াল ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ‘shilpakalapage’ এ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে।