রাজীব দেঃ
চট্টগ্রাম বন্দরনগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে গতবারের রানারআপ রাশেদ বলীকে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এই ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে ১৯০৯ সালে আবদুল জব্বার সওদাগর যে বলীখেলার সূচনা করেছিলেন, তা আজ চট্টগ্রামের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০৮ জন বলী অংশ নেন।
ফাইনালে কুমিল্লার একই এলাকার দুই বলী—বাঘা শরীফ ও রাশেদ মুখোমুখি হন। দীর্ঘ ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে আক্রমণাত্মক কৌশলে জয় ছিনিয়ে নেন বাঘা শরীফ। এটি ছিল এই দুই বলীর টানা তৃতীয় ফাইনাল লড়াই।
প্রথম সেমিফাইনালে মিঠু বলীকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন রাশেদ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শাহ জালালের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে বাঘা শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়লাভ করেন মিঠু বলী।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, শতবর্ষী এই খেলা কেবল বিনোদন নয়, বরং চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও শৌর্যবীর্যের প্রতীক। লালদীঘির এই চত্বরকে ঘিরে গড়ে ওঠা বৈশাখী মেলা এবং বলীখেলা এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে এই খেলার প্রচলন করেছিলেন বদর পাতির ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর। সেই থেকে প্রতি বছর বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।