১। র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের জন্য র্যাবের জোরালো তৎপরতা অব্যাহত আছে। এছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকান্ডের দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনপূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে র্যাব সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
২। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর শাহ আলী থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুল কোমর গলির ৫৫নং বাসার ৫ম তলায় টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই বুলবুল আহমেদ রুবেল (৪৯)’কে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার একমাত্র আসামী খোরশেদ আলম রনি (৪৩), পিতাঃ মৃত আজিজ ভূঁইয়া, সাং-গাঁওদিয়া, থানাঃ লৌহজং, জেলাঃ মুন্সিগঞ্জ‘কে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব-৩।
৩। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ধৃত আসামি খোরশেদ আলম রনি (৪৩) ভিকটিম রুবেল এর পালিত ভাই। ভিকটিম এর মা ছোটবেলা থেকেই ধৃত আসামিকে লালন পালন করে আসছেন। ভিকটিমের মা ও তার পালিত ছেলেসহ তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর ফকিরাপুলে বসবাস করছে। গত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ দুপুর ১৩০০ ঘটিকায় ভিকটিম এর ছোট বোন কিস্তির টাকার বিষয়ে আলোচনা করতে আসেন। উক্ত সময়ে ধৃত আসামি তার পালক মা এর ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং তার ঘুমের সমস্যা হওয়ায় সে উগ্র আচরণ করেন। পরবর্তীতে ভিকটিম রুবেল ধৃত আসামীর কাছে উগ্র আচরণের কারণ জানতে চাইলে তাদের মাঝে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে ধৃত আসামি রনি ড্রয়ার থেকে ছুড়ি বের করে বড় ভাই রুবেলকে পাজরে আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার ভিকটিম রুবেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করে।
৪। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে মোঃ আলিফ আহমেদ অনিক বাদী হয়ে রাজধানীর মতিঝিল থানায় ধৃত আসামি খোরশেদ আলম রনি (৪৩) এর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রুজু করে। বিষয়টি র্যাব-৩ এর নজরে আসলে র্যাব-৩ এর গোয়েন্দা টিম কর্তৃক ছায়া তদন্ত শুরু করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে উক্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী রনির বিরুদ্ধে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে সে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেকে আত্নগোপনে রেখেছিলেন।
৫। আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজধানীর মতিঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।