ঢাকা মহানগরীর শাহজাহানপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন মোঃ অহিদুর রহমান (৪৩)’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩
এলিট ফোর্স হিসেবে র্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে অনলাইন জুয়ারী, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ধর্ষণ, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনী, ছিনতাইকারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ১৭৩০ ঘটিকার সময় অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগরীর শাহজাহানপুর থানাধীন ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ২০ আউটার সার্কুলার রোড রাজারবাগ রাস্তার উপর হতে অভিযান পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন অহিদুর রহমান (৪৩), পিতাঃ মোঃ মৃত আব্দুল জলিল খান, সাং-দক্ষিণ ইরতা, উত্তর সিংগাইর, থানাঃ শাহজাহানপুর, জেলাঃ ঢাকা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের সময় ধৃত আসামির নিকট হতে ০২টি স্মার্টফোন (জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত), বিকাশ এ্যাপে ৮১২১৪/- টাকা, নগদ এ্যাপে ৫০০৪১/- টাকা ও পার্সোনাল সিমকার্ড ০২টি, নগদ ৫৫৫০০/- টাকা এবং ০১টি ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন-৩ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ধৃত আসামি অহিদুর রহমান (৪৩) আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক জুয়া সাইটের অ্যাডমিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করে ফেইক একাউন্ট এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জুয়ার বেটিং সাইট ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল বলে ধৃত আসামি স্বীকার করে। ধৃত আসামির মোবাইলের হোয়াটস অ্যাপ এবং মেসেঞ্জার এর চ্যাট হিস্টোরি পর্যালোচনা করে আসামির সাথে দেশ বিদেশের অন্যান্য ব্যক্তির সাথে জুয়া/বেটিং সাইট এর প্রচার ও অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং আসামি এই জুয়া/বেটিং চক্রের একজন সুপার এজেন্ট বলে জানা যায়। তারা এক বা একাধিক ব্যক্তি এজেন্ট ইউজার সুপার এ্যাডমিনগণ মিলে মোবাইল এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবৎ অনলাইন জুয়া (বেটিং) তাদের নিয়োগকৃত এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছে। ধৃত আসামি ও তার সহযোগীরা টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের নিকট অনলাইনে বেটিং খেলার জন্য বেটিং সাইটের নিজস্ব কারেন্সি বা (PBU) বিক্রয় করে থাকে।
৪। ধৃত আসামি আহিদুর রহমান (৪৩) এর ব্যবহৃত মুঠোফোন SAMSUNG এর Chrome browser history পর্যালোচনা করে দেখা যায় ag.aagun.site, ag.agunt97.net, www.nayaludus.win, ag.luckybuzz.site,
tkbaazi.site, ag.aagun.site, ag.admhor247.win,ag.nayaludus.win, bajiex.win, aagun.site,fsa.velkigames365.cc
https://www.facebook.com/abid.khan.488661 নামক সাইটের কোনটির অ্যাডমিন আবার কোনটির এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় অনলাইন বেটিং খেলার জন্য গ্রাহক সংগ্রহের নিমিত্তে তার দুটি ফেইক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে যার নাম https://www.facebook.com/abid.khan.488661 ও
https://www.facebook.com/ahidur.rahman.576592
ধৃত আসামি আরও জানায় যে, উক্ত চক্রের সাথে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন সদস্য সম্পৃক্ত রয়েছে। ধৃত আসামি ও তার সহযোগীরা জুয়া (বেটিং) সাইট পরিচালনা করে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, গাড়ীসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে বলে জানা যায় ধৃত আসামি ও তার সহযোগীরা পরস্পরের সহযোগীতায় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে অবৈধ জুয়ার সাইট পরিচালনায় মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করায় এবং ভূয়া পরিচয়ে ফেইসবুক/হোয়াটস অ্যাপে ছদ্মনামে একাউন্ট খুলে বেটিং সাইট পরিচালনা করে জুয়া ও জুয়ার স্থান পরিচালনা, জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ ও জুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করে জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ এর ১৬/১৭/১৮(২)/১৯/২০ ধারার অপরাধ করেছে। ধৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৩ এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।