• ৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৪শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

জুলাই সনদ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর-আলী রীয়াজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
জুলাই সনদ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর-আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেস সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন,
যে তরুণ পথে নেমে এসেছে, যে যুবক কাজ ফেলে রাজপথে নেমেছে, যে বাবা ছেলেকে মিছিলে পাঠিয়ে প্রার্থনায় বসেছে, যে শ্রমিক প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে তাদের সবার কাছে আমাদের অনেক ঝণ। আর সে ঋণ-ই ‘জুলাই সনদ’। এর প্রতিটি অক্ষর কালো কালিতে লেখা হলেও এর পটভূমি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর-ই জুলাই সনদ।

তিনি বলেন, আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, জনগণের অধিকার পদদলিত করতে না পারে, কাউকে গুম করতে না পারে, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে সে জন্য ‘জুলাই সনদের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করে আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, দীর্ঘ ষোলো বছর যাঁরা ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের নিগড় থেকে মুক্ত স্বদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জীবন বিনিময় করেছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, গ্রেফতার-নির্যাতন ভোগ করেছেন তারাঁ আমাদের কয়েকটি দায়িত্ব সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন।
দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি কোন পথে যাবে, আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা।
আমরা বিশ্বাস করি অগুনতি শহীদের আত্মাহুতি বৃথা যাবে না, এদেশের জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে কথা বলবে। এবং সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ত্রুটি- বিচ্যুতি সংশোধন করার জন্য জাতীয় সংসদের একটা কমিটি করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ টি বৈঠক, ১০৪ জন ব্যক্তির মতামত নিয়ে বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনী আর যাতে ছেলেখেলায় পরিণত না হয় সেটা বন্ধ করা সময়ের দাবি।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪- এ তিন তিনটি তামাশার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে ড. রীয়াজ বলেন, ২০১২ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নানে সে সময়ের রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’ নামে একটি ‘নাটক’ মঞ্চস্থ হয়েছিল। বলা হয়েছিলো ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন। কিন্তু জানা গেছে ‘সার্চ কমিটির সুপারিশে ‘কাজী রকিব উদ্দিন’ নামক কোনো ব্যক্তির নাম ছিলো না। এক ব্যক্তির ইচ্ছাতেই এটি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিলো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই। সেটি হলো—আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?

তিনি বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরী করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে অ্যাবিউজ করেছে নিজেদের হীন স্বার্থে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

মতবিনিময় সভায় ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031