সাবেক পরিবেশক ‘মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ এবং ‘অগ্রণী ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর দায়ের করা সালিশি মামলাগুলোতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন আদালত। আজ (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত (আদালত নং-২) মামলাগুলোতে কোনো আইনি ভিত্তি বা ‘মেরিট’ না পাওয়ায় সেগুলো খারিজ করে দেন।
সাবেক দুই পরিবেশক তাদের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন পরিবেশক নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা (ইনজাংশন) চেয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ‘সালিশি বিবিধ মামলা নং ৪৩৬/২০২৫ এবং ৪৩৭/২০২৫’ দায়ের করেছিলেন। গতকাল ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালত মেরিটের ওপর বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানিকালে ইউনিলিভার বাংলাদেশ প্রমাণ করতে সক্ষম হয় যে, পরিবেশক চুক্তি বাতিল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনানুগ এবং চুক্তির শর্তানুসারেই সম্পন্ন হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে পান যে, পরিবেশকরা মামলা দায়েরের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন করেছেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। ফলে আজ আদালত পরিবেশকদের আবেদনটি খারিজ করে ইউনিলিভারের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, এই সালিশি মামলা দায়েরের আগে পরিবেশকরা ভুল ফোরামে দুটি ঘোষণামূলক মামলা (Declaration Suit) এবং দুটি অর্থ মামলা (Money Suit) দায়ের করেছিলেন। তবে আইনি গ্রহণযোগ্যতা (Maintainability) না থাকায় আদালত আগেই ঘোষণামূলক মামলাগুলো খারিজ করে দিয়েছিলেন। এরপর তারা পুনরায় এই সালিশি মামলার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রার্থণা করেন, যা আজ চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলো।
এই রায়ের ফলে ইউনিলিভার বাংলাদেশের আইনসম্মতভাবে পরিবেশক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তটি বৈধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো। এর ফলে কোম্পানিটি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত পরিবেশকদের মাধ্যমে উক্ত এলাকাগুলোতে কোনো ধরণের আইনি বাধা ছাড়াই স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
আদালতে ইউনিলিভার বাংলাদেশের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ আশিম এবং ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন। অন্যদিকে পরিবেশকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক (ফারুকী) এবং ব্যারিস্টার আবির আব্বাস।