আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, মন্দির ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা বলেন, বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক ডামাডোলে হিন্দু সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ‘বলির পাঁঠা’ হয়। সরকার হিন্দুদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এবারের নির্বাচনেও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার তীব্র আশঙ্কা করছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে বলেন, “সংখ্যালঘুরা দেশের নাগরিক হিসেবে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন না। আমরা নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থাপনা ও জানমালের কঠোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, আগামী ২৩ জানুয়ারি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা উদযাপিত হবে। ওইদিন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা রাখা হয়েছে, যা সংখ্যালঘু পরীক্ষার্থীদের জন্য চরম বৈষম্যমূলক।হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে আগামী ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সকল নিয়োগ ও শিক্ষা সংক্রান্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং নির্বাচনের সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।