• ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

বাংলাদেশে ব্যাংক পুনর্গঠন কাঠামো শক্তিশালী করতে জরুরি সংস্কারের আহ্বান পিআরআইয়ের গোলটেবিল আলোচনায়

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
বাংলাদেশে ব্যাংক পুনর্গঠন কাঠামো শক্তিশালী করতে জরুরি সংস্কারের আহ্বান পিআরআইয়ের গোলটেবিল আলোচনায়

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আজ হোটেল আমারিতে কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর সহায়তায় “Bank Failures and Resolution Regime: Understanding the Challenges for Bangladesh” শীর্ষক একটি গোল টেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাত যদি আগের মতোই চলতে থাকে, তাহলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কোন রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করবে তা নির্বিশেষে সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।”

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন পিআরআই এর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স পাস হওয়া কাজের অর্ধেক মাত্র। এর বাস্তবায়নের জন্য এখন প্রয়োজন কার্যকর প্রক্রিয়া, সিস্টেম এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ-যা বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে রেজোলিউশন রেজিম কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। সুশৃঙ্খলভাবে ব্যাংক রেজোলভ করা, সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা এবং আমানতকারীদের সুরক্ষার পাশাপাশি পদ্ধতিগত ঝুঁকি কমানোর সক্ষমতা না থাকলে এই অর্ডিন্যান্স কাগুজে প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বাস্তব কাজ হলো অপারেশনাল সক্ষমতা গড়ে তোলা: তদারকি সরঞ্জাম, মূল্যায়ন দক্ষতা, পুনরুদ্ধার ব্যবস্থাপনা এবং স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রোটোকল-যা আস্থা পুনরুদ্ধার করবে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার করবে। তখনই এই অর্ডিন্যান্স তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে-স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং একটি শক্তিশালী, আরও দৃঢ় ব্যাংকিং খাতের ভিত্তি স্থাপন।”

সভাপতির বক্তব্যে পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, “অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৩৫ শতাংশে পৌঁছানো এক অভূতপূর্ব ঘটনা-যা বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতেও দেখা যায়নি-এবং এটি কীভাবে ঘটল তা বিশ্লেষণমূলকভাবে বোঝা জরুরি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের প্রেক্ষাপট অনন্য এবং জটিল-যেমন আমাদের বাণিজ্য নীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে-এ কারণে ব্যাংকিং রেজোলিউশনের জন্য নিজস্ব কাঠামো প্রয়োজন। উন্নত অর্থনীতিতে যেসব প্রতিষ্ঠান ‘too big to fail’ হিসেবে বিবেচিত হতো, বাংলাদেশে অনেক ব্যাংক এখন ‘too toxic to fail’-কারণ এগুলো ধসে পড়লে অর্থনীতির পুরো ব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো-ব্যাংকিং খাতের রক্তক্ষরণ থেমে এসেছে এবং কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। আমি আশা করি আগামী বছর প্রায় ৫% প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। এর জন্য আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি সুন্দর, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন জাতির জন্য এক বড় উপহার হবে বলে আমি মনে করি। এরপর একটি নির্বাচিত সরকার আসবে-যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নীতি পরিচালনা করবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজোলিউশন ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাহির হোসেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন। ড. আখতার বলেন, “আমাদের FDI-to-GDP অনুপাত ইতোমধ্যে খুবই কম, এবং উচ্চ NPL ও চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সমন্বয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।”

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আইনগত হালনাগাদ, আমানত সুরক্ষা শক্তিশালীকরণ এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি উন্নয়নসহ অগ্রাধিকারমূলক সংস্কারসমূহ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31