নিজস্ব প্রতিবেদক :: ‘৫ মেয়ের মধ্যে একটা মারা গেছে, ছোট একটা পুয়া (ছেলে) কোনদিন বড় হইবো আমি বাচঁমু না মরমু, পাকা ঘর বানাইতো পারবো নি। আমি ও প্যারালাইজে অসুস্থ হইয়্যা ঘর বন্ধি। কোনদিন ভাবছি না পাকা ঘরে ঘুমাইমু। আইজ ঠিকই বাস্তবে পাকা ঘরো ঘুমাইয়ার। মরার আগে এর থাকি বেশি খুশি আমার আর কিতা হইতো। প্রধানমন্ত্রী ঘর দেওয়ায় অনেক খুশি আমি।’ এ রকম আবেগে কথাগুলো বলেন জুড়ীর পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের প্যারালাইসিস হয়ে ঘরে থাকা বিধান দাশ।
দূযোর্গ সহনীয় ভূমিহীনদের জন্য প্রাপ্ত ঘর হতে পাকা ঘর পেয়ে শুধু বিধান দাস নয়, জায়ফরনগর ইউনিয়নের মিনারা বেগম, ইয়ারুন নেছা সহ অনেকে এভাবেই আবেগ তাড়িত হয়ে কথাগুলো বলেন।বিধান দাশ, মিনারা বেগম, ইয়ারুন নেছার মত ২৪ টি পরিবার যাদের পাকা ঘর বানানোর সাধ্য নেই সেকল পরিবারকেও এরকম ঘর করে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল (২৩ অক্টোবর) সরেজমিনে পরিদর্শনে এ প্রতিবেদককে আবেগতাড়িত হয়ে কথা বলেন সরকারি ঘর প্রাপ্ত কয়েকজন।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরের টিআর কাবিটা কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ দ্বারা জুড়ী উপজেলার গৃহহীনদের জন্য দূর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জুড়ী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ২৪ ঘর তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রত্যেকটি ঘরে খরচ হয়েছে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। জায়ফরনগর, পূর্ব জুড়ী, পশ্চিম জুড়ী, ফুলতলা, সাগরনাল এবং গোয়ালবাড়ি এই ৬ ইউনিয়নে ৪টি করে ঘরের কাজ শেষে মালিকদের হাতে চাবি হস্তাস্তর করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ফুলতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী কোন মানুষ যাতে গৃহহীন না থাকে সেজন্য প্রাথমিক পর্যায়ে এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমার ইউনিয়নে ও ৪ টি ঘর দেওয়া হয়েছে। যেগুলো পেয়ে মানুষ অনেক খুশী। পর্যায়ক্রমে সকল গৃহহীনরা যদি এভাবে ঘর পায় তাহলে আমাদের এলাকায় গৃহহীন থাকবে না।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো ওমর ফারুক বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহনীয় ঘরগুলো টিআর কাবিটার বরাদ্দ থেকে দেওয়া হয়েছে। ঘরের কাজ স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যানগণ তাদের দায়িত্বে করেছেন। আমরা সব সময় তদারকি করেছি। অসহায়, গৃহহীন মানুষগুলো ঘর গুলো পেয়ে অনেক খুশি।
বেলাল হোসাইন / বার্তা ডেস্ক