২৫ বছর ধরে গুলশান-২ গোল চত্বরে সুলভ মূল্যের খিচুড়ি ঘর
২৫ বছর ধরে গুলশান-২ গোল চত্বরে সুলভ মূল্যের খিচুড়ি ঘর
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২৪
রিপোর্ট: রাজীব-তাজ
খিচুড়ি পছন্দ করে না এমন মানুষ বাংলাদেশে বিরল। সেই খিচুড়ি যদি হয় সরিষার তেল দিয়ে রান্না করা, চাটনি আচার এবং গরু বা মুরগির মাংসের সমন্বয়ে, তাহলে তো কথাই নেই। আজ এমন একটি খিচুড়ি রেস্টুরেন্টের গল্প শোনাবো। রাজধানীর ব্যস্ততম অভিজাত এলাকা গুলশান ২ এর গোল চত্বরে ২০০০ সাল থেকে খিচুড়ি ঘর চলমান। রেস্টুরেন্টটি এতই ছোট যে, সেখানে সাকুল্যে ১৫ জন বসতে পারে। কিন্তু সকাল আটটা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে এটি। মূলত ভুনা খিচুড়ির জন্যই নামকরা রেস্টুরেন্টটি। সরিষার তেলের সাথে চিকেন ভুনা, বিফ ভুনা এবং ডিম খিচুড়ি- তিন প্রকার এখানে পাওয়া যায়। দাম একদম হাতের নাগালে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ পরম তৃপ্তি নিয়ে এখানে খেতে পারে। কথা হয় রেস্টুরেন্টের কর্ণধার পনু হাওলাদার এর সাথে। মূলত তার রেসিপি এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে বর্তমানে রেস্টুরেন্টটি চলছে। ২০০০ সাল এবং তার পরবর্তী কয়েক বছর তিনি সব খাবার রান্না এবং প্রস্তুত করতেন। এখন তার সাগরেদরা এই কাজটি সাফল্যের সাথে করে যাচ্ছে। তিনি জানান- “আমাদের খাবার টাটকা রান্না করা হয় এবং গরম গরম পরিবেশন করা হয়। প্রতিদিন ২৫ ডেক খিচুড়ি লাগে, যা সারাদিন এবং মধ্যরাত পর্যন্ত পাওয়া যায়। আমরা তামার ডেক ব্যবহার করি। মিডিয়া জগতের অনেক নায়ক, নায়িকা, পরিচালক প্রযোজক মধ্যরাতে শুটিং শেষ করে গাড়ি থামিয়ে এখানে খেয়ে যান। অন্যান্য বাংলা রেস্টুরেন্টের তুলনায় আমরা অনেক কম মূল্যে খাবার বিক্রি করি। মূলত খিচুড়ি আমাদের প্রধান আকর্ষণ। এর সাথে পাওয়া যায় তেহারি এবং সীমিত পরিসরে সাদা ভাত, মাছ-মাংস, তরকারী৷ সব উপাদানই সতেজ, টাটকা এবং হালাল।” ম্যানেজার মোঃ আব্দুস সালাম খোকন একই সুর মিলান। উল্লেখ্য, পনু হাওলাদারের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তার সুযোগ্য পুত্র মোঃ আল-আমিন হাওলাদার।
এবার খিচুড়ির গুণ-মানের বর্ণনায় আসা যাক। প্রতি লোকমায় এক টুকরো করে মাংস পাওয়া যাবে। একটু মাখামাখা হালকা ঝাল ধরণের খিচুড়ির হাফ প্লেট পেট ভরার জন্য যথেষ্ট৷ চিকেন খিচুড়ির ক্ষেত্রে চিকেন গ্রেভি বা ঝাল ফ্রাই দেওয়া হয়। সাথে থাকে চাটনী এবং আচার। পাঠকগণ, আপনিও কী গরম গরম মাখামাখা ভুনা খিচুড়ি উপভোগ করতে চান? তো আসতে হবে গুলশান দুই গোল চত্বরে, ক্রাউন প্লাজা ফাইভ স্টার হোটেলের পেছনে। ঠিকানা: বরুণ ভবন মার্কেটের নীচ তলা, মেইন রোডের সাথে, গুলশান ২, ঢাকা।