• ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

গুলশান বনানীর পূজায় প্রতিবছর রাষ্ট্রপতি,বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত,সাংসদ,উপদেষ্টা,অধ্যক্ষ, সিটি-মেয়র, কাউন্সিলর আসতেন, এবারও তাঁদের আগমন হবে, আশাবাদী পূজা কমিটি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩, ২০২৪
গুলশান বনানীর পূজায় প্রতিবছর রাষ্ট্রপতি,বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত,সাংসদ,উপদেষ্টা,অধ্যক্ষ, সিটি-মেয়র, কাউন্সিলর আসতেন, এবারও তাঁদের আগমন হবে, আশাবাদী পূজা কমিটি

প্রশাসনের নিরাপত্তাজনিত আশ্বাসের পরও বিভিন্ন জেলায় সমানে চলছে নির্মীয়মাণ প্রতিমা ভাঙচুর

ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত এলাকা হচ্ছে গুলশান-বনানী। গুলশান বনানী সার্বজনীন দুর্গাপূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত পূজায় প্রতিবছর দেশের রাষ্ট্রপতি, বাংলাদেশে নিয়োজিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সংসদ, উপদেষ্টা,অধ্যক্ষ, সিটি-মেয়র, কাউন্সিলার সহ সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি আসতেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না, তাঁদের সকলে দুর্গাপুজোয় আসবেন বলে আশাবাদী পূজা কমিটির পদাধিকারীরা।

গুলশান বনানী ঢাকা শহরের সবচেয়ে অভিজাত
এলাকা বলে পরিচিত। কেননা, এর পাশেই
অবস্থিত বিভিন্ন রাষ্ট্রের দূতাবাস। প্রতিবছর
দুর্গাপূজায় আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত
আমেরিকার হাইকমিশনার, রাশিয়ার
হাইকমিশনার, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত, ভারতীয়
হাইকমিশনার, জার্মানের রাষ্ট্রদূত, থাইল্যান্ডের
রাষ্ট্রদূত, নেপালের রাষ্ট্রদূত, শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত,
জাপানের রাষ্ট্রদূত, চিনা রাষ্ট্রদূত সহ অন্যান্য
কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আনাগোনা ছিল সরকারি
বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ ও পদস্থ আধিকারিক, রাজনৈতিক যেমন বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য সব দলের নেতৃবৃন্দের।

এলাকায় বসবাস করেন বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী, সংগীত শিল্পী, চলচ্চিত্র পরিচালক, এবং ক্রীড়াবিদ। আশা করি, এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। এবারের পূজায়ও সকলেই আসবেন, এসে সমানভাবে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়ে বার্তা দেবেন সম্প্রীতির। কথাগুলি বলেছেন গুলশান বনানী পূজা ফাউন্ডেশন-এর চন্দনচন্দ্র লোধ। তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সনাতনীদের প্রধান উৎসব। আমরা সনাতনীরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, তাই আমরা শান্তিতে পূজা করতে চাই।

গুলশান বনানী সার্বজনীন দুর্গা পূজা ফাউন্ডেশন-এর বিপুল কান্তি দাশ বলেন, দুর্গাপূজায় সনাতনীদের পাশাপাশি সবাই পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করি। আমরা চাই, প্রতি বছরের মতো এবারও যেন শান্তিপূর্ণভাবে পূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারি।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন কর্মকার বলেন, সারা দেশে
দুর্গাপূজায় যাতে শান্তি বিরাজ করে, তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। এবারের পূজায় প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা থাকবে বলে প্রশাসন আমাদের আশস্ত করেছে। তা সত্ত্বেও কোনও অশুভ শক্তি মায়ের পূজায় যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।

পূজা কমিটির পদাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মিহিরচাঁদ
দে বলেন, হিন্দু ধর্ম শান্তির ধর্ম। আমরা এ
দেশের প্রতিটি দুর্যোগে মানুষের পাশে থেকে
সহযোগিতার হাত বাড়াই। দুর্গাপূজা আমাদের
সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গোৎসব করতে চাই। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিগত দিনগুলোতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলাম, এ সব বিষয়ে সকলকে মনে রাখা জরুরি।

এদিকে পূজার মণ্ডপ তৈরির কাজে ব্যস্ত
রূপকার অ্যাড ফার্ম-এর মহম্মদ ইব্রাহিম। তাঁর
সাথে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, গত ২২
সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা বনানী পূজার মাঠে কাজ
শুরু করেছেন। মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় শেষের
দিকে। পুরোদমে কাজ চলছে। এবার তাঁরা
পারটেক্স ফ্লাই সহকারে ডুপ্লেক্সভাবে থাই ফ্লাই
দিয়ে প্যান্ডাল তৈরি করছেন। অন্যবার এক মাস
আগে পূজার কাজ শুরু হলেও এবার অল্প
দিনের মধ্যে কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। অতীতে
হার্ডবোড দিয়ে তৈরি হতো কলকাতার
দক্ষিণেশ্বর এবং বিভিন্ন মন্দিরের আদলে পূজার
প্যান্ডাল।উল্লেখ্য দেশে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশন ২০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। গত ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট শুরু হয়। সনাতনীদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের গণেশ পূজার প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় কদম মোবারক এক মাদ্রাসা থেকে গরম জল ছুঁড়ে ফেলেছিল।

আজ বৃহস্পতিবার ৩ অক্টোবর,২০২৪ ইং সকাল আটটায় কিশোরগঞ্জ সদরের ৩২ নরসুন্দরা রোডে অবস্থিত গোপীনাথ আখড়া দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুষ্কৃতকারীরা। এদিকে গতকাল মহালয়ার দিনও প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এর মধ্যে পাবনা সজানগর উপজেলার পাল  পাড়া, রংপুরের সাহাবাজপুর সুতারপাড়ায় দশভূজার প্রতিমা, নড়াইল মীরাপাড়া দুর্গা মন্দির সহ অন্যান্য স্থানের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধমূর্তি ভাঙচুর করেছে দুষ্কৃতীরা।তাছাড়া কিছুদিন আগে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মধ্যবাজার এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুর করে দুষ্কৃতকারীরা। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বৃহস্পতিবার ভোররাত
চারটার দিকে এক যুবককে আটক করে পুলিশ।

এছাড়া ফরিদপুরে ভাঙাবাজার গুলপট্টি
এলাকায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুটি মন্দিরে প্রতিমা
ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভাঙ্গাবাজার সার্বজনীন
হরিমন্দির ও ভাঙ্গা সার্বজনীন কালীমন্দিরে এই প্রতিমা ভাঙেচুরের ঘটনা ঘটে। মন্দির দুটিতে
প্রতিমা ভাঙ্গার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার
করে পুলিশ। প্রথমে তাকে ভারতীয় নাগরিক
বলে প্রচার চালানো হয়েছিল। পরে দেখা যায়
সে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাংলাদেশি নাগরিক। বরিশাল বরগুনা সদরে গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলার ফুলঝুরি ইউনিয়নের গলাচিপা গ্রামের সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে ও প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে।

গুলশান বনানীর পূজায় প্রতিবছর রাষ্ট্রপতি,
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সাংসদ,উপদেষ্টা,অধ্যক্ষ, সিটি-মেয়র, কাউন্সিলর আসতেন, এবারও তাঁদের আগমন হবে, আশাবাদী পূজা কমিটি

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31