• ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র “সৈনিক” পত্রিকার সম্পাদক আবদুল গফুর এর প্রয়াণ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৪
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র “সৈনিক” পত্রিকার সম্পাদক আবদুল গফুর এর প্রয়াণ

মহান ভাষা আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক, প্রবীণ সাংবাদিক, জাতির অভিভাবক অধ্যাপক আবদুল গফুর স্যার আর নেই। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি আজ দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।

ভাষা সৈনিক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল গফুর এর জানাজার নামাজ আজ রাত ৮ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে।
জানাজা শেষে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ভাতিজা মো: মুঈদুজ্জামান মহিত।

ভাষা আন্দোলনের কিংবদন্তি অধ্যাপক আবদুল গফুর ১৯২৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ির দাদপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের ছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাংস্কৃতিক সংগঠন তমুদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিস পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তোলা হয়।এসময় এর প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেমের সাথে অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আবদুল গফুর।

১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর তমদ্দুন মজলিসের বাংলা মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হলে গফুর প্রথমে এর সহ-সম্পাদক ও পরে সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সৈনিক পত্রিকার বিশেষ সংখ্যার শিরোনাম ছিল ‘শহীদ ছাত্রদের তাজা রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত, মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলে ছাত্র সমাবেশে পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণ’।

ফলশ্রুতিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ পত্রিকাটির অফিস অবরোধ করে সম্পাদক আবদুল গফুর ও প্রকাশক আবুল কাসেমকে গ্রেফতার করে।
ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৫ সালে একুশে পদক প্রদান করে।

শিক্ষা জীবনে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ইন্টারমিডিয়েটে স্ট্যান্ড করা ছাত্র ছিলেন তিনি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
অত্যন্ত সাদা মনের গুণী মানুষ অধ্যাপক আবদুল গফুর দীর্ঘ দিন অসুস্থ ছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের মে থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।এরপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ইংরেজি দৈনিক পিপল, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দৈনিক দেশ পক্রিয়ার সহকারী সম্পাদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে দৈনিক ইনকিলাব প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি তখন থেকে পত্রিকাটির ফিচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আবদুল গফুর ১৯৫৯ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দারুল উলুম (ইসলামিক একাডেমি)-এর সুপারিন্টেন্ডেট হিসেবে কাজ করেন।পরবর্তীতে এক বছর চট্টগ্রামে জেলা যুব কল্যাণ অফিসার হিসেবে কাজ করে। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত আবু জর গিফারী কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশনা পরিচালক ছিলেন।
তাঁর ছেলে সাংবাদিক তারেক আল বান্না সকলের নিকট দুয়া কামনা করেছেন।

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31