• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

“সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যতেœ বাঁচাও ধরণীরে”

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ১২, ২০২৬
“সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যতেœ বাঁচাও ধরণীরে”

বিশ্ব কিডনী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কিডনী রোগ সচেতনতামূলক র‌্যালি, সেমিনার অনুষ্ঠিত
কিডনী রোগ প্রতিরোধের উপর গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্ত

“সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যতেœ বাঁচাও ধরণীরে” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ ১২ মার্চ ২০২৬ইং তারিখ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গন বটতলা থেকে বিশ্ব কিডনী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কিডনী রোগ সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়েছে। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম। এতে বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা. মোঃ ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোঃ আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোঃ রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। র‌্যালি শেষে শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কিডনী রোগ প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিডনী সেবাকে অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা, কিডনী প্রতিস্থাপন সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, মরণোত্তর কিডনী প্রতিস্থাপন সফল করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত সার্বজনীন স্বাস্থ্য চিকিৎসা বাস্তবায়িত হলে কিডনী রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। কারণ কিডনী রোগ দীর্ঘ দিন নীরবে বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ায় এ রোগ জটিল আকার ধারণ করে।

কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত র‌্যালিপূর্বক সমাবেশে বক্তারা কিডনী রোগ প্রতিরোধের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয় ব্যয় নামমাত্র। তাই রোগ নির্ণয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই ব্যায়ভার শুধু ব্যক্তি রোগীর উপর নয় অথবা রোগীর পরিবারের উপরও নয়, বরং এই চিকিৎসা সাপোর্ট দেওয়া সমগ্র জাতির জন্য, সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত দূরহ কাজ। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার অভিভাবক হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই কিডনি রোগে প্রতিকারের ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। একটা আশার বিষয় হচ্ছে কিডনি রোগের চিকিৎসা যতটা ব্যয়বহুল কিডনি রোগ নির্ধারণ কিন্তু ততই সহজ একটি প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র একটি প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে একজন কিডনি রোগী শনাক্ত করতে অনেকখানি সক্ষম। আমরা যদি প্রতিটি ইউনিয়ন সাব সেন্টার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে এই তথ্য এবং আবেদিক পেলোতে এই তথ্য এবং এই প্রযুক্তিটাকে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে কিডনী রোগ সনাক্ত অনেকটাই সহজসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। কিডনি রোগের প্রতিকারও সক্ষমতার ভেতরে চলে আসবে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যতেœ বাঁচাও ধরণীরে।”

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বলেন, নীরবঘাতক কিডনী রোগের প্রতিরোধে জনসচেতনা সৃষ্টির বিকল্প নাই। কিডনী রোগ প্রতিরোধে ভেজাল খাবার খাওয়া যাবে না। ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৮টি স্টাডির উপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ এর মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লক্ষ এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। বর্তমানে এই রোগে মৃত্যুর স্থান অষ্টম এবং ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে, যা মানুষের সুস্থ জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ৮ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গন বটতলায় বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ এর প্রাক্কালে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ শুরুতেই কিডনি রোগ চিহ্নিত না হলে রোগীর জন্য অনেক বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ১১ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে শের-ই-বাংলা নগরস্থ ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কিডনী ডিজিস এ্যান্ড ইউরোলজি এর অডিটোরিয়ামে কিডনী রোগ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।