• ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না- ফকির মাহবুব আনাম

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৬
অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না- ফকির মাহবুব আনাম

বাংলাদেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী ধারণার অভাব নেই। আমরা এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত ফান্ড অব ফান্ডস এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দক্ষতা, সুশাসন ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ফান্ড অব ফান্ডস পরিচালনা করা হবে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতকেও স্টার্টআপে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, শুধু কাগজে-কলমে উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, বাস্তবে কাজ করে এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে। ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে দেশে আরও বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মূলধন আনার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন “বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে একটি গেম-চেঞ্জিং উদ্যোগ। এটি দেশের স্টার্টআপ খাতকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পুঁজি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্ভাবননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ খাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু অর্থায়ন নয়, স্টার্টআপদের মেন্টরশিপ, দক্ষতা, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে বিনিয়োগের পাশাপাশি এসব সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আইনসম্মত মুনাফা ও মূলধন সহজে প্রত্যাবাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, “সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু স্টার্টআপে বিনিয়োগই বাড়াবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামোও গড়ে তুলবে।”

অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই ফান্ডটির কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল, ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচন প্রক্রিয়া, কো-ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।” তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় শক্তিশালী সুশাসন, পেশাদার ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ কৌশলসম্পন্ন নির্বাচিত দেশি ও আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে।

অনুষ্ঠানে Request for Expression of Interest (REOI) আহ্বানের মাধ্যমে যোগ্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ম্যানেজারদের অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়।

গত এক দশকে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করলেও এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস এই বৈষম্য দূর করে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন শক্তিশালী করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্পের বিকাশ এবং একটি টেকসই স্টার্টআপ অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের স্টার্টআপকে সহায়তা, স্থানীয় ফান্ড ম্যানেজারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।

উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে স্থানীয়, আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার-সমর্থিত ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এ তহবিলের আকার ৪০০ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির প্রতিনিধি Morikawa Yuko, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং ইকোসিস্টেমের সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031