প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল ‘রাজবন বিহারের কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষ্যে নিম্নোল্লিখিত বাণী প্রদান করেছেন:
“রাঙামাটির রাজবন বিহারের কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষ্যে বিহারের বৌদ্ধসহ অন্যান্য সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি এই মহোৎসবে সমবেত ভিক্ষু সংঘ ও সকল পূণ্যার্থীকে নিরন্তর শুভেচ্ছা জানাই। একইসাথে, এ স্মরণিকা প্রকাশনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে অভিনন্দন জানাই।
এবছর ৩০ থেকে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ৪৯তম কঠিন চীবর দান মহোৎসবে হাজারো পূণ্যার্থী অংশ নেবেন। শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই নয়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এতে সমবেত হবেন।
রাঙামাটি রাজবন বিহারের কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। কঠিন চীবর দান শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি দানশীলতা, সংযম ও মানবকল্যাণের এক মহোৎসব। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত-শৃঙ্খলা, ধ্যান ও প্রজ্ঞার এক নিবিড় সাধনা। এর সমাপ্তি ঘটে প্রবারণা পূর্ণিমায়, আর তারপর কার্তিক মাস জুড়ে মহাসমারোহে পালিত হয় কঠিন চীবর দান।
বুদ্ধের শিক্ষা-সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ও করুণা, সীমান্ত, বর্ণ ও ধর্মের উর্ধ্বে গিয়ে এক বিশ্বজনীন সত্য। আজকের অস্থির বিশ্বে এই শিক্ষা মানবতার জন্য দিকনির্দেশনা। সংঘাতমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এর প্রাসঙ্গিকতা আজ আরও গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। টেকসই মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রয়োজন যা কঠিন চীবর দান মহোৎসবের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
আমি ‘রাজবন বিহারের কঠিন চীবর দান-২০২৫’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করছি।”