• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

রাজধানীর গুলশান-২ এ অত্যাধুনিক কোরিয়ান ফিউশন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে “চয়েস”

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৩, ২০২৪
রাজধানীর গুলশান-২ এ অত্যাধুনিক কোরিয়ান ফিউশন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে “চয়েস”

রিপোর্ট: রাজিব-তাজ

কোরিয়ান বেকড খাবার বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাংলাদেশের খাদ্য প্রেমীরা গত কয়েক বছর ধরে কোরিয়ান রামেনের অভিজ্ঞতা লাভ করা শুরু করেছে। মূলত বৃহৎ পরিসরে বিভিন্ন কোরিয়ান অথেন্টিক খাবার এদেশের ভোজন রসিকদের জন্য ‘চয়েস’ প্রাণবন্ত পরিবেশে যাত্রা শুরু করেছে। যারা নতুন কিছুর স্বাদ আস্বাদন করতে চান, তাদের জন্য চয়েস সেরা গন্তব্য হতে পারে। এই ফিউশন ক্যাফেটি বিশ্ব-বিখ্যাত বেকড সব খাবার আইটেম, হট- কোল্ড  কফি ইত্যাদি পরিবেশন করে। খাবারের মান এবং স্বাদ নির্ধারণের আগে পরিবেশ নিয়ে কথা বলা যাক। প্রবেশ পথ আপনাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্যাফে পরিবেশে স্বাগত জানাবে, যেখানে মৃদু শব্দের সঙ্গীত বা মিউজিক চলে। টেবিলগুলো কাঠের তৈরি, শৈল্পিক নকশায় অঙ্কিত। ক্যাফের দেওয়ালগুলিতে কফি ও বেকড আইটেম এর কিছু ক্লাসিক মেসেজ বা বার্তা আঁকা হয়েছে। মোট কথা, বিদেশী ক্যাফের একটি মোহনীয় স্পর্শ সহজেই চোখে ধরা পড়ে।

চয়েস এর কর্ণধার প্রশিক্ষিত এক্সিকিউটিভ শেফ হাউএন চয়, যার নাম অনুসারে রেস্তোরাঁর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে, চয়েস। তিনি নিউজ টিমকে জানান- “এই আউটলেটটি কোরিয়ান স্বতন্ত্র ঘরানায়  বাংলাদেশে প্রথম। তিনি কোরিয়ান ফিউশন শৈলীর একটি ঝলক ক্যাফেতে আনতে চেয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, হাউয়েন চয় কোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি ঢাকার এআইএসডি স্কুলে প্রাথমিক পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তীতে, তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষায়িত শেফ কোর্স সম্পন্ন করেন। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হল চয়েস কে আন্তর্জাতিক  ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে নিয়ে আসা।

এবার, খাবারের গুণমান এবং বৈচিত্র্য বর্ণনা করার পালা। চয়েস-এর ক্যাফেতে কোরিয়ান মিশ্র প্রকৃতির কফি (ডার্ক রোস্টেড) পাওয়া যায়। সাধারণ ক্যাপুচিনো, ল্যাটে, আমেরিকানো, মাকিয়াটোর তুলনায় সাধারণত এই কোরিয়ান কফির স্বাদ একটু গাঢ়/শক্তিশালী হয়। কোল্ড কফির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মধ্যে একটি চমকপ্রদ মধুর টেডি বিয়ার (খাদ্যযোগ্য) উপরে পরিবেশন করা হয়। বাংলাদেশে এটা অবশ্যই নতুন। সপ্নিক অ্যাসেনশন, দক্ষ বারিস্তা এবং ক্যাফের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যথাযথ যত্ন সহকারে এই চোখ ধাঁধানো এবং মন ঠান্ডা করা ফ্র্যাপে ও কোল্ড কফি প্রস্তুত করেন। ফ্র্যাপে এবং কফির পাশাপাশি কোল্ড প্রেসড স্যান্ডউইচ, ক্রোয়েস্যান্ট স্যান্ডউইচ এবং বিভিন্ন স্বাদ ও মানের ১০ প্রকার ফাস্ট ফুড মুখে জল আনতে প্রস্তুত।

বিংসু কোল্ড ডেজার্ট, দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন ডেজার্ট হিসেবে আরেকটি চমক। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর ভাবে প্রাকৃতিক নরম লাল মটর, দুধের ক্রিম, সয়া পাউডার, কর্ণ এবং বরফ মিলে তৈরি হয়, যা ঢাকার কাস্টার্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। মালিক এবং শেফ হাউয়েন চয় চমৎকার এসব রেসিপি নিশ্চিত করেন। যদিও কোরিয়ান উপাদান আমদানি করা সবসময় সম্ভব হয় না, তাই স্থানীয় উপাদানগুলি সেরা আউটপুটের জন্য একটি দারুন ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য, কোরিয়ান বেকারি আইটেম সবসময় বিখ্যাত। তাই কফি, শেকস, ডেজার্ট, কেক, বেকড খাবার এবং প্রধান খাবারের পরিপ্রেক্ষিতে কোরিয়ার ফিউশন স্বাদ পরিবেশন করতে চয়েস সদা প্রস্তুত। আমরা আমাদের অতিথিদের জন্য একটি ভাল-ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখি। এছাড়াও, উল্লেখ করার মতো আরেকটি আকর্ষণীয় অংশ হল কোরিয়ান বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী পোশাক শৈলীর কেক, যেটি কোন উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য আগে থেকে বুকিং করা হয়। বেকড আইটেম, পেস্ট্রি, কেক ১০০% হালাল উপাদান দিয়ে তৈরি যার বেশিরভাগ উপাদান দক্ষিণ কোরিয়া এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ক্যাফেটি সকাল ৮ টায় খোলে এবং প্রতিদিন রাত ১১ টায় বন্ধ হয়।
ক্যাফের ঠিকানা হল- নিচতলা, কনকর্ড আইকে টাওয়ার, ০২, মাদানী এভিনিউ, গুলশান সার্কেল ২, ঢাকা।