• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো জুলাই-মে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রপ্তানি তথ্য প্রকাশ করেছে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৪

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, উল্লেখিত ১১ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২.৮৬% এ নেমে এসেছে। জুলাই-মে ২০২৩-২৪ সময়ে পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৪৩.৮৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময় রপ্তানি ছিল ৪২.৬৩ বিলিয়ন ডলার, এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৬৭%।

মূলতঃ এপ্রিল ও মে ২০২৪ মাসে রপ্তানি একটানা কমে যাওয়ার ফলে ১১ মাসের গড় রপ্তানিতে মন্দাভাব সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

১১ মাসে আমাদের পোশাক রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭.৬৩% পিছিয়ে পড়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মে মাসে নীটওয়্যার পন্যের প্রবৃদ্ধি ২০.৭৫% কমেছে এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি ১২.৪৮% কমেছে।

সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফিতি এবং তা নিয়ন্ত্রনে সুদ হার বৃদ্ধির ফলে ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা কমে এসেছে, ফলে পোশাকের খুচরা বিক্রয় ও আমদানি কমেছে (জানুয়ারী-মার্চ ২০২৪ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক পোশাক আমদানি কমেছে ৭.১৮% এবং ইউরোপের কমেছে ১২.৮৪%)। পাশাপাশি ইউনিট প্রতি পন্যের উল্লেখযোগ্য দরপতন (জুলাই ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আমাদের প্রধান পন্যের দরপতন হয়েছে ৮%-১৮%) রপ্তানি কমার অন্যতম কারন।

বিশেষকরে নূন্যতম মজুরী বৃ্দ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ব্যাংক সুদ সিঙ্গেল ডিজিট থেকে ১৪%-১৫% হওয়া, এবং এই সংকটময় সময়ে নগদ সহায়তা কমিয়ে আনার ফলে শিল্প প্রতিযোগি সক্ষমতার দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে। তার কিছুটা প্রতিফলন রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য যে, পোশাকখাত’কে নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। আমরা একদিকে এনবিআর, বন্দর ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত জটিলতা মোকাবেলা করছি। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলের বাইরে নতুন কোন কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ ও ব্যাংক ঋণ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা আমরা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগ ও রপ্তানি আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০৩০ সাল নাগাদ আমরা ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি এবং সেই অনুযায়ী উদ্যেক্তারা নতুন পন্যে বিনিয়োগ করছেন এবং নতুন বাজার তৈরিতে তৎপর আছেন। আমরা বিশ্বাস করি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় ও অর্থনীতির কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধির স্বার্থে সরকার পোশাক খাতের জন্য বিকল্প ইনসেনটিভ প্রবর্তনের আগ পর্যন্ত চলমান সকল সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং এর মাধ্যমে শিল্পের উৎকর্ষতা ও টেকসই হওয়ার পথটি মসৃণ করতে সহযোগীতা করবে।