• ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা: কৌশলগত মজুত নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা: কৌশলগত মজুত নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের প্রধান উৎস হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ভারতের উচ্চমাত্রার নির্ভরশীলতা দেশটিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
ভারতের মোট তেল আমদানির ৫৫ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার দৈনিক পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে—বিশেষ করে রুশ তেল আমদানিতে ওয়াশিংটনের চাপের পর—মধ্যপ্রাচ্যের ওপর এই নির্ভরশীলতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় এই ঝুঁকি আরও প্রকট হয়েছে। যদিও ভারতের ৭৪ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে, তবে বর্তমানে দেশটির হাতে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে তা দিয়ে মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিন চলতে পারে। পণ্য গবেষণা সংস্থা ‘আইসিআইএস’ (ICIS)-এর জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বিষয়টি উল্লেখ করে জানান, চীনের কাছে যেখানে অন্তত ছয় মাসের অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, সেখানে ভারতের এই স্বল্পকালীন মজুত দেশটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটির তেল মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন পুনরায় রুশ তেল আমদানিতে আরোপিত ২৫ শতাংশ ট্যারিফে কোনো ছাড় দেবে কি না, তা নিয়ে এখনো হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রেজারি ও জ্বালানি বিভাগ আগামী মঙ্গলবার নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে ভারত এখন বহুমুখী কূটনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সাশ্রয়ী মূল্যে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ এবং অভ্যন্তরীণ মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করাই এখন নয়াদিল্লির জন্য মূল অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31