বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে তারা আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান চলাচল, শ্রম আইন সংস্কার এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর অতিবাহিত করার পর বিদায় নিতে যাওয়া রাষ্ট্রদূত জ্যাকবসন গত ১৭ মাসে প্রধান উপদেষ্টার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের বিষয়ে মার্কিন সরকারের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—উভয় প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে শান্তি বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
রাষ্ট্রদূত জ্যাকবসন অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত শ্রম সংস্কারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে নতুন শ্রম আইনকে “অসাধারণ” বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পূর্ববর্তী সরকারের সময় শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে করা ৪৬টি মামলার মধ্যে ৪৫টি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তিনি সরকারের বিশেষ প্রশংসা করেন।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা নতুন শ্রম অধ্যাদেশকে একটি “চমৎকার আইনি দলিল” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান যে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক নেতারা ও আইএলও (ILO) এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ও মানবিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়। ১০ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক বৃহত্তম দাতা হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা দেশটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূত জ্যাকবসনকে তার এক বছরের গুরুত্বপূর্ণ মেয়াদে বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম “বন্ধু” হিসেবে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে তাকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।