চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: আজ সকালে উপদেষ্টা শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বন্দর ভবনে পৌঁছালে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি ঘিরে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি জানান। একপর্যায়ে উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দাবি পর্যালোচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগ ও চুক্তি প্রয়োজনীয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী এই চুক্তি সম্পন্ন হবে। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নাশকতা বা অহেতুক বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে বিশৃঙ্খলা দমনে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
উপদেষ্টার সাথে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে আন্দোলনকারীরা আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার (৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা উপদেষ্টাকে দুই দিনের সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পুনরায় লাগাতার কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।”
গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থায় দেশের মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী এই বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছিল। বহির্নোঙরে জাহাজ জট এবং ১৯টি অফডক থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী এবং বিজিএমইএ-এর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান জানিয়েছেন, সামনে রমজান ও শবে বরাত থাকায় এই স্থবিরতা নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।
বর্তমানে বন্দর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ধীরগতিতে অপারেশনাল কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।