আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও তরুণ প্রজন্মের ভাগ্য পরিবর্তনে একগুচ্ছ আধুনিক ও যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি সম্বলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের গবেষণার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে দেশের সকল স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরি ও ক্যাফেতে সরকারি উদ্যোগে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
দেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে বিএনপি এই খাতকে করমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিদেশে মেধা পাচার (Brain Drain) রোধ এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা প্রদানের স্বার্থে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে সকল কর প্রত্যাহার করা হবে।
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা
বিশ্ববাজারে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান ও ম্যান্ডারিন ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেই আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
শিক্ষাকে আনন্দময় করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দলগত কাজ, ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পদ্ধতি চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে মিড-ডে মিল (দুপুরের খাবার) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইশতেহার ঘোষণা করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এই পরিকল্পনাগুলো কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও দক্ষ জাতি গঠনের রোডম্যাপ। দেশি মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়াই এই ইশতেহারের মূল লক্ষ্য।