শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে,১৩ই সেপ্টেম্বর, শুক্রবার,বিকাল ৩ ঘটিকার সময় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এক বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।বাংলার হিন্দু এক হও বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত রয়েছেন বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ, সনাতন অধিকার মঞ্চের নেতৃবৃন্দ, সনাতনী অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কবৃন্দ সহ সংগ্রামী সনাতনী নেতৃবৃন্দ।
আমরা সুষ্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, আপনারা যদি ২ কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতে না পারেন তবে বলে দিন আমরা জাতিসংঘের কাছে নিরাপত্তা চাইবো।
আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি সমূহ:
অনতিবিলম্বে ৮ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ৫ই আগষ্ট থেকে ২০ই আগষ্ট সিরিয়ার হামলার সুষ্ঠু বিচার এর জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
ঠাকুরগাঁও,চট্টগ্রাম সহ সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিচার করতে হবে। আসন্ন দুর্গাপূজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে সারাদেশে।
এই দাবি গুলো পুরণ না হলে আগামীতে বাংলাদেশ হিন্দু জাগরন মঞ্চ সকল সংগঠন এর সাথে সমন্বয় করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবে।
পুরান ঢাকায় চলছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ। গতকাল ১২ই সেপ্টেম্বর দুপুর ২ ঘটিকায় রাজধানীর সুত্রাপুর হৃষীকেশ দাস রোডে একটি বিশেষ মহল ১৫০ জনের অধিক লোক নিয়ে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা করে।হৃষীকেশ মন্দিরে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান করছে।
বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতিতে হিন্দুদের উপর বর্বরোচিত নির্যাতন, মঠ-মন্দির, ঘর-বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, জায়গা-জমি দখলসহ সকল অত্যাচারের প্রতিবাদে এবং অন্তর্বতীকালীন সরকারের নিকট পেশকৃত ৮ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ।
গত ৫ই আগষ্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যে নারকীয় হামলা শুরু হয়েছিলো এরই পেক্ষাপটে ৯ই আগস্ট, ২০২৪ইং শাহবাগে ছাত্র জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন শুরু হয়। এরপর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচারবিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিপূরুন সহ সার্বিক নিরাপত্তার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট ৮ দফা দাবি পেশ করা হয় এবং তারই প্রেক্ষিতে অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আন্দোলনরত ছাত্র জনতা সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন ও আমাদের ৮ দফা কে যৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেন।
সেই বৈঠকে অন্তবর্তীকালীন সরকার হিন্দু সম্প্রদায় সহ সংখ্যালঘু জনগণ কে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করবে বলে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে তা প্রতীয়মান নয়। আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলতে চাই
গত ৫ই আগষ্ট থেকে ২০ই আগষ্ট সারাদেশে ১০৬৮ টি বাড়ি, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ২২ টি মন্দিরে হামলা হয়েছে (সূত্র প্রথম আলো)। প্রকৃত পক্ষে এই সংখ্যা আরও বেশী। সনাতনী সম্প্রদায়রা এসময় সমাবেশ থেকে বলতে চাই.. বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে পাওয়া নতুন দেশ কি শুধু মাত্র সংখ্যাগুরুদের জন্য?নতুন বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের জন্য নয় কি?
আমরা দেখতে পাচ্ছি যত দিন যাচ্ছে একটি মহল সংখ্যালঘুদের উপর সুপরিকল্পিত ভাবে আক্রমণ করছে। খুলনার উৎসব মণ্ডলের উপর আক্রমণ, চট্টগ্রামে গনেশ প্রতিমায় আক্রমণ, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, নীলফামারী, ময়মনসিংহ উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলি।